Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একের পর এক তাজা বোমা। পুলিশের অভিযানে সেই বোমাগুলিই উদ্ধার হতেই পূর্ব বর্ধমানের কালনায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েতের পারদুপসা এলাকার এই ঘটনায় মাহবুব আলম সরকার ওরফে লালবাবু নামে এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কালনা থানার পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য , মাহবুব আলমের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১০টি তাজা বোমা পাওয়া যায়। গোপন সূত্রে তাঁর বাড়িতে বোমা রাখা রয়েছে বলে খবর আসে কালনা থানার ধাত্রীগ্রাম ফাঁড়ির পুলিশকর্তাদের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পারদুপসা গ্রামে পৌঁছন তদন্তকারীরা। এরপর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বোমাগুলি।
উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে ডাকা হয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডকে। বিশেষজ্ঞরা পৌঁছে সমস্ত বোমা উদ্ধার করেন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীকেও আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার মাহবুব আলমকে কালনা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের অগ্রগতির জন্য ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তবে তদন্তকারীদের সামনে এখনও বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কেন এতগুলি বোমা বাড়িতে রাখা হয়েছিল? এই বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে এল? কার মাধ্যমে সেগুলি মাহবুব আলমের কাছে পৌঁছেছিল? এর পিছনে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর দাবি, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোনও গোষ্ঠীর কাউকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা দরকার।
যদিও তৃণমূলের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অনুপ হালদারের পাল্টা দাবি, দলের সক্রিয় কর্মীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে বোমা রেখে থাকতে পারে। বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
ফলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় যেমন তদন্ত শুরু হয়েছে, তেমনই ঘটনাকে ঘিরে দুই রাজনৈতিক দলের চাপানউতোরও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।


