Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম (TMC Party Name) এবং জোড়াফুল প্রতীকের (Joraphool Symbol) আসল অধিকার কার—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এই বিষয়েই নির্বাচন কমিশনের (ECI) মুখোমুখি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দুই শিবির। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুই পক্ষের সঙ্গেই আলাদা করে কথা বলে নির্বাচন কমিশন।
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতে কমিশনের কাছে নতুন করে চিঠি পাঠায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল (Kalighat Trinamool)। দলের হয়ে চিঠিটি পাঠিয়েছেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। চিঠিতে ডেরেকের অভিযোগ, ঋতব্রত শিবির তাদের দাবির সমর্থনে কমিশনের কাছে ঠিক কী কী নথি জমা দিয়েছে, সেই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষকে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। পাশাপাশি কমিশনের ওয়েবসাইটেও তৃণমূলের মূল সংবিধানের সর্বশেষ তথ্য আপডেট করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডেরেকের দাবি, দলের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সালে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই সেই নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ও দাপ্তরিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের চেয়ারপার্সন। তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে ঋতব্রত শিবির যে অভিযোগ তুলেছে, সেটিও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগেই দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। তবে, সময় হাতে কম থাকায় এত দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না হলে কমিশন তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করে দিতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচনে দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে।
এখন মূল নজর, ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই চিঠির পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথির বিস্তারিত তথ্য কালীঘাট শিবিরকে কমিশন জানায় কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


