Aaj India Desk, কলকাতা: শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তদন্তের আঁচ এবার আরও তীব্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)-কে গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে বলে দাবি CID-এর। মেদিনীপুর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, জেরার সময় নিজের ভূমিকা ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন সুমিত।
তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর বক্তব্য থেকেই কোটি কোটি টাকার লেনদেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। সেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিষয়েও তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে CID। এমনকি ওই টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়াতেও তদন্তকারীদের সহযোগিতা করার কথা সুমিত জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আট দিনের হেফাজতে সুমিত, শুরু দফায় দফায় জেরা
শালবনি মামলায় সুমিত রায়কে আট দিনের CID হেফাজতে পাঠিয়েছে মেদিনীপুর জেলা আদালত। শুক্রবার সকালে ভবানীভবন থেকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তদন্তকারীদের হাতে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
তবে CID-এর দাবি, সুমিতকে এর আগেও একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কিছু উত্তর তদন্তকারীদের কাছে সন্তোষজনক হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সেই কারণেই হেফাজতে নিয়ে আরও গভীরভাবে জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
আইনি রক্ষাকবচ উঠতেই গ্রেফতার, নজরে ‘মূল চক্র’
সুমিতের গ্রেফতারির আগে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সামনে আসে। তাঁর উপর থাকা আইনি রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পরেই সক্রিয় হয় CID। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের আশঙ্কা ছিল, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি ফের আত্মগোপন করতে পারেন। তাই আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের পর দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়।
এখন CID-এর তদন্তের মূল লক্ষ্য শালবনি জমি দুর্নীতির পিছনে থাকা গোটা চক্রের সন্ধান। সুমিত কার নির্দেশে কাজ করতেন, সেই নির্দেশদাতা কারা এবং আর্থিক লেনদেনে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল তার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
শালবনি মামলার বাইরেও সুমিতকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগে তলব করেছিল ED। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পৃথক আর্থিক মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে ED সূত্রের দাবি। ফলে সুমিতের জেরাকে ঘিরে একাধিক তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।


