রাঁচি: ২০২৬-এ দাঁড়িয়েও নরবলির ছায়া (Human Sacrifice)? ধানবাদের বালিয়াপুরে জঙ্গলের ভিতর ১৭ বছরের এক নাবালিকার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন উঠছে। দেহ এক জায়গায়, মুণ্ড অন্যত্র। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ধূপকাঠি ও পুজোর সামগ্রী। আর তাতেই নরবলি ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে এলাকায়। যদিও নরবলি (Human Sacrifice) দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য দেয়নি পুলিশ।
ধাংগিং বস্তি লাগোয়া জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। পরে মারাইথান এলাকার ছাতনিয়া ব্রিজের কাছে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় মুণ্ড। জঙ্গলের অন্য অংশ থেকেও উদ্ধার হয়েছে দেহের আরও একটি অংশ। ভয়াবহ এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে ফরেনসিক দল ও ডগ স্কোয়াড। ক্রাইম সিন থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পুজোর সামগ্রী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আদৌ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নরবলি, নাকি অন্য কোনও ভয়ঙ্কর রহস্য?
স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, নরবলির (Human Sacrifice) উদ্দেশ্যেই কি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড? তবে পুলিশের বক্তব্য, এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পরই হত্যার ধরন এবং ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি মিলতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর দিক! মৃত কিশোরীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বাবা আগের সন্ধ্যাতেই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই যুবককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পরিবারের দাবি, জাতপাতের কারণে ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি গ্রাম। সম্পর্ক নিয়ে একবার পঞ্চায়েতও বসেছিল। পরে দু’জনে ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে থাকছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যুবক, তাঁর বাবা এবং এক আত্মীয়ের এই ঘটনায় ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে ধানবাদের এই হত্যাকাণ্ডে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই কি এই নৃশংসতা? নাকি পুজোর সামগ্রীর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আরও ভয়ঙ্কর কোনও রহস্য?
উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর ততক্ষণ পর্যন্ত বালিয়াপুরের জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া এই মুণ্ডহীন দেহ ঘিরে ‘নরবলির ছায়া’ আরও ঘনীভূত হচ্ছে! যদিও তার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।


