28 C
Kolkata
Saturday, September 12, 2026
spot_img

চাকরি বাঁচাতে TET পাস করতেই হবে! অগস্টের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে বড় তৎপরতা বিকাশ ভবনের

Aaj India Desk, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যে কর্মরত বা ইন-সার্ভিস শিক্ষক (In-service)-শিক্ষিকাদের জন্য বিশেষ টেট (TET) নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য সরকার। ১১ সেপ্টেম্বর বিকাশ ভবন থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কবে নাগাদ এই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।

তবে এই TET নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করা প্রবীণ শিক্ষকরা। কারণ, ১৫-২০ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া অনেক শিক্ষকের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী TET দেওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা নেই। বিশেষ করে অনেকের ডি.এল.এড বা বি.এড-এর মতো যোগ্যতা নেই। ফলে তাঁরা আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবেন কি না, আর পরীক্ষায় পাশ না করলে চাকরি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে কি না—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩১ অগস্ট ২০২৮-এর সময়সীমার মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে রাজ্য। সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষার সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক করে দ্রুত দফতরকে জানানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিকাশ ভবন থেকে নির্দেশিকা এসেছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষার সময়সূচি তৈরির কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, RTE Act 2009 এবং NCTE-র নিয়ম অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষকতার ক্ষেত্রে TET পাশ করা প্রয়োজন। ২০১১ সালের আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার দাবি নিয়ে একাধিক শিক্ষক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন করেছিল। কিন্তু সেই দাবিতে আদালত কোনও পরিবর্তন করেনি। তবে যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। বাকি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংসদের বাদল অধিবেশনেও শিক্ষকদের জন্য কোনও কেন্দ্রীয় আইনি সুরক্ষা না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে এখন রাজ্যের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে গোটা দেশে প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষকের চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন