Aaj India Desk, হুগলি: শুক্রবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)- এর মিছিল হওয়ার কথা ছিল। ৫০০০ মানুষের জমায়েতের সেই কর্মসূচি ঘিরে প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিটি রোডে মিছিল করার অনুমতি মিলল না কলকাতা হাইকোর্টে। তবে কর্মসূচি একেবারে বন্ধ করে দেয়নি আদালত। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মাহেশ মাঠে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের নির্দেশে ১১ সেপ্টেম্বর মিছিলের বদলে সভা করবে তৃণমূল।
দু’ঘণ্টার সভা, উপস্থিত থাকতে পারবেন ২০০০ জন
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে। অর্থাৎ মোট দু’ঘণ্টার জন্য কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ৫০০০ মানুষের বদলে সর্বাধিক ২০০০ জন সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন।
শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিও মানতে হবে আয়োজকদের। শুধু তাই নয়, মঞ্চ থেকে বক্তৃতার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, এমন বক্তব্যও নিষিদ্ধ করেছে আদালত।
জিটি রোড নিয়ে আদালতে প্রশ্ন
শুক্রবার জিটি রোডে মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ওই রাস্তার ভিড় ও পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, শুক্রবার জিটি রোড অত্যন্ত ঘিঞ্জি থাকে। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজে ওই রাস্তায় গিয়েছেন এবং জায়গাটি সম্পর্কে জানেন। বিকল্প হিসেবে রবিবার মিছিল করা অথবা দিল্লি রোডে কর্মসূচি করার পরামর্শও দেন বিচারপতি।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মিছিলের প্রস্তাবিত এলাকার কাছেই রয়েছে ওয়ালশ হাসপাতাল, একটি দমকল কেন্দ্র এবং ছটি স্কুল। পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবাবেগের দিক থেকেও এলাকাটি স্পর্শকাতর বলে জানানো হয়। তাঁর বক্তব্য, জিটি রোডের পরিবর্তে দিল্লি রোডে মিছিল করা যেতে পারে।
ব্যবসায়ীদের আপত্তি, পাল্টা যুক্তি তৃণমূলের
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হয়ে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী জানান, জিটি রোডে মিছিল হলে রাস্তা কার্যত আটকে যাবে। এর ফলে দোকানপাট বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, একই জায়গায় অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিছিল করতে পারলে তৃণমূলের ক্ষেত্রে আপত্তি কেন? বিজেপিও ওই এলাকায় মিছিল করেছে বলে আদালতে উল্লেখ করেন তিনি।
শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও সওয়াল করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের মিছিলের পরিবর্তে মাহেশ মাঠে সভার অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিছিলের আবেদন করা হয়েছিল। মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার কথা ছিল এবং প্রায় ৫০০০ মানুষের জমায়েতের আবেদন জানানো হয়েছিল।


