Aaj India Desk, কলকাতা : শালবনি জমি মামলায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত। এই গ্রেপ্তারির পরই ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এর মধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাম না নিয়েই তৃনমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ অপেক্ষায় আছেন যে সুমিতের ‘প্রভু’ কবে গ্রেফতার হবেন।”
আদালতের রক্ষাকবচ সরতেই গ্রেফতার
১০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুমিত রায়ের গ্রেফতারির পথ পরিষ্কার হয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলায় সুমিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারি জমি জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি বা দখলের অভিযোগ রয়েছে এই মামলায়।
কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি থেকে হেফাজতে
কালীঘাটের ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই সুমিত রায়কে হেফাজতে নেয় সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ দল। তদন্তে আর্থিক লেনদেন এবং নগদ জমার মতো বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। এই মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকেও আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। একাধিকবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।
‘প্রভু’ মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর
সুমিত রায়ের গ্রেফতারির পরেই প্রতিক্রিয়া দেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, “অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। চেয়েছিলাম যেন সুবিচার হয়। হয়ে গেল। পোষ্যটা গ্রেপ্তার হয়েছে। বাংলার মানুষ এখন অপেক্ষা করছে, কবে সুমিতের প্রভু গ্রেফতার হয় সেটা দেখার জন্য।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে প্রবীণ তৃনমূল নেতা শোভনদেব বলেন, “সুমিত দলের কেউ নয়। সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে চাকরি করতো। এছাড়া তো আর কোনো সম্পর্ক নেই।” তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরেও সুমিত রায়কে ঘিরে জল্পনা অব্যাহত। তাঁর গ্রেফতারির পর এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর। মামলায় আরও কারও ভূমিকা উঠে আসে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার উপরই নির্ভর করবে।


