Aaj India Desk, কলকাতা: পুজোর আগেই রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন (By-election)। ভোটের (Vote) প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে শাসকদল বিজেপি (BJP)। কিন্তু ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনও নিজেদের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট করতে পারেনি বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কারণ, দলের অন্দরের দ্বন্দ্বই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কার্যত দুই শিবিরে ভাগ। একদিকে কালিঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী নব্য তৃণমূল। দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত ইতিমধ্যেই আদালত থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের প্রতীক কার হাতে থাকবে?
রাজনৈতিক মহলের মতে, যে পক্ষ দলের প্রতীক পাবে, ভোটের ময়দানে স্বাভাবিকভাবেই তারা বাড়তি সুবিধা পাবে। অন্য পক্ষের সামনে তৈরি হবে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা। নতুন কোনও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে গেলেও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি পেতে সময় লাগতে পারে। আর সেই অনুমতি সময়মতো না মিললে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা ছাড়া অন্য কোনও পথও নাও থাকতে পারে।
শুধু প্রতীক নয়, প্রার্থী বাছাই নিয়েও দুই শিবিরের সামনে সমস্যা রয়েছে। কালিঘাটপন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—দুই জায়গাতেই এখনও নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে দলের পরিচিত মুখেদের অনেকেই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন না বলে সূত্রের খবর। ফলে কাকে সামনে রেখে ভোটের লড়াই হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে নব্য তৃণমূলের নন্দীগ্রাম-কেন্দ্রিক সংগঠন এখনও খুব একটা শক্তিশালী নয় বলেই খবর। সেখানে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না। যদিও রেজিনগরে দুই শিবিরেরই সাংগঠনিক উপস্থিতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতীক নিয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত কোন তৃণমূল শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনের ময়দানে নামবে, তা নিয়েই জোর জল্পনা চলছে।
নব্য তৃণমূলের নেতা ফিরহাদ হাকিম অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দেবেন। তাঁর কথায়, দলের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে এবং দ্রুতই প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সুর আখরুজ্জামানের গলাতেও। তাঁর দাবি, দল হিসাবে নব্য তৃণমূলের অস্তিত্ব রয়েছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবেই তাঁরাই উপনির্বাচনে লড়বেন। তাঁদের দাবি, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং সেই কারণেই দলের প্রতীকও তাঁদের হাতেই আসবে।
অন্যদিকে, নব্য তৃণমূলের এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন কালিঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে। তাই তাঁরাই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোটে লড়বেন বলে দাবি করেছেন তিনি। বাকি সিদ্ধান্তও খুব দ্রুত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুণাল।
ফলে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন। একই দলের দাবিদার দুই শিবির, এক প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন এবং দুই আসনে প্রার্থী দেওয়ার পাল্টাপাল্টি ঘোষণা—শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কাকে তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


