Aaj India Desk, কলকাতা : বাগেশ্বর ধামের বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে (Dhirendra Krishna Shastri) ঘিরে ‘অলৌকিক ক্ষমতা’র বিতর্ক ফের তুঙ্গে। ২০২৩ সালের ৩০ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ এবার বেড়ে হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। যুক্তিবাদী কর্মী শ্যাম মানবের দাবি, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী যদি সত্যিই ‘দিব্যশক্তি’র মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে পারেন, তাহলে নিরপেক্ষ ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় সেই ক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।
২০২৩ সালে নাগপুরে এই বিতর্ক বড় আকার নেয়। শ্যাম মানবের দাবি ছিল, তাঁর বেছে দেওয়া ১০ জনের নাম, ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য কোনও প্রশ্ন না করেই সঠিকভাবে জানাতে পারলে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে (Dhirendra Krishna Shastri) ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। মানবের অভিযোগ, শাস্ত্রী সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। যদিও পরে শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি অন্য জায়গায় পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। ফলে পরীক্ষার শর্ত ও স্থান নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই যায়। সেই সময় শাস্ত্রীর অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগও ওঠে। নাগপুর পুলিশ তদন্ত করে জানায়, মহারাষ্ট্রের কালোজাদু-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ তারা পায়নি। একই সময়ে শ্যাম মানবের নিরাপত্তা বাড়ানোর খবরও সামনে আসে।
এবার ২০২৬ সালে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মানব। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় এবং ১০টি বস্তুর পরিচয় নির্ভুলভাবে জানাতে হবে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে দু’বার পরীক্ষা হবে। দুই পরীক্ষাতেই অন্তত ৯০ শতাংশ তথ্য সঠিক হলে ৮০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।মানবের শর্ত, পরীক্ষা হবে নাগপুরের নিরপেক্ষ জায়গায়, ‘দিব্য দরবারে’ নয়। মোবাইল ফোন সিল করে রাখা এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরীক্ষক বা ‘পঞ্চ’ কমিটি রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যদিকে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri) তাঁকে নিজের ‘দিব্য দরবারে’ এসে চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি ‘জাদু’ নয়, ঈশ্বরের অনুপ্রেরণার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে পুরনো বিতর্কে এবার নতুন অঙ্ক। প্রশ্ন একটাই, কথিত ‘দিব্যশক্তি’ কি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় প্রমাণিত হবে, নাকি বিতর্ক থেকে যাবে বিশ্বাস বনাম যুক্তির জায়গাতেই?


