30 C
Kolkata
Sunday, September 6, 2026
spot_img

৮-১০ জন গিয়েছেন ভয় বা মামলার চাপে’, দলত্যাগী বিধায়কদের নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল

Aaj lndia Desk, কলকাতা: নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই দল ছেড়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)দাবি করেছেন, দলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ এখনও যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দল ছাড়ার নেপথ্যে থাকা কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কারও বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, কারও ক্ষেত্রে নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কিছু জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক চাপের কারণেও অন্যদিকে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কুণাল। ফলে তাঁদের প্রত্যেককে একইভাবে বিচার করা ঠিক হবে না বলেই তাঁর মত।

তবে যোগাযোগ থাকলেও তাঁদের প্রকাশ্যে তৃণমূলের পাশে দেখা যাচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি করা হলেও পরবর্তী সময়ে নিজের এলাকায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে সেই দায়িত্ব নেওয়া তৃণমূলের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে দলীয় নিরাপত্তা দিয়ে কাউকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

কুণালের আরও দাবি, অন্য শিবিরে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার রাজনৈতিক সুবিধাও রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে সেই শিবিরের ভিতরের খবরাখবর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এই মুহূর্তে সবাইকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসার পরিবর্তে যোগাযোগ অটুট রাখাকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল।

তবে ঘরওয়াপসির সম্ভাবনা থাকলেও প্রত্যেকের জন্য যে দরজা খোলা নয়, তা স্পষ্ট করেছেন কুণাল। নাম না করেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে গুরুতর অসভ্যতা করেছেন এমন বিশেষ কয়েকজনকে দল মেনে নেবে না। কালীঘাটে তাঁদের দেখা গেলে কর্মী-সমর্থকদের তরফে ‘গুড়-বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন’-এর মন্তব্যও করেন তিনি। এই শব্দবন্ধ ঘিরে অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গও রাজনৈতিক মহলে ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে কুণালের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে থাকার চেষ্টা করেন কুণাল। পাল্টা দাবি করে প্রসূন বলেন, কুণালের সঙ্গে থাকা অনেকের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দুই তৃণমূল নেতার বক্তব্য ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন