Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নেপালে ২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা দিন। কিন্তু বহু পরিবারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। প্রিয়জন বেঁচে আছেন কি না, সেই আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। এখন তাঁদের একটাই চাওয়া—যদি পুরো দেহ না-ও পাওয়া যায়, অন্তত দেহের কোনও অংশ যেন উদ্ধার হয়। যাতে প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে শেষকৃত্যটুকু করা যায়। আর সেই পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা।
এই অপেক্ষার কষ্টের একটি উদাহরণ অমৃত দিয়ালির ঘটনা। রসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীর জলে ভেসে গিয়েছিলেন তাঁর ৩৩ বছরের ভাই রাজ কুমার দিয়ালি, তাঁর স্ত্রী এবং চার বছরের সন্তান। দীর্ঘ খোঁজের পর পাঁচ দিন পরে নওয়ালপুরে নদীতে ভাসতে থাকা একটি কাটা হাত উদ্ধার করেন অমৃতের ভাইপো। হাতটি রাজ কুমারের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে DNA পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।
অমৃতের দেওয়া নমুনা বর্তমানে পরীক্ষার তালিকায় ১৮২ নম্বরে রয়েছে। প্রিয় ভাইয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে তাঁর অপেক্ষা এখন শুধু একটি নিশ্চিত খবরের জন্য। অমৃতের কথায়, তাঁদের আর কোনও আশা নেই। কাটা হাতটি যদি তাঁর ভাইয়ের হয়, তাতেও অন্তত তাঁরা নিশ্চিত হতে পারবেন যে রাজ কুমারের কী হয়েছিল।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতদের পরিচয় জানার জন্য এখনও পর্যন্ত ২,২৭২টি DNA নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,২৬০টি নমুনা নেওয়া হয়েছে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ বা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে। অন্যদিকে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে আরও ১,০১২টি নমুনা। এই নমুনাগুলির মধ্যে রয়েছে বাবা-মা, সন্তান এবং ভাই-বোনদের রক্তের নমুনা। পুলিশ জানিয়েছে, ১,০৩০টি মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করার পর সেগুলির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক দেহ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে যে, সেগুলির পুরুষ না মহিলা—সেটাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কাঠমান্ডুতে গিয়ে নমুনা দিতে যাতে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের বেশি সমস্যায় না পড়তে হয়, সেই কারণে নুয়াকোটের বিদুরে একটি বিশেষ DNA নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রও চালু করেছে নেপাল পুলিশ। একই সঙ্গে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলির তথ্য পুলিশের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ১,২৭০টি অজ্ঞাতপরিচয় দেহের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হাসপাতালের উপ-মহাপরিদর্শক ডক্টর দামোদর পৌডেলের মতে, কোনও দেহ যদি অত্যন্ত বিকৃত বা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে তার পরিচয় নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হল ফরেনসিক DNA পরীক্ষা।
২৬ অগস্ট ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎ হড়পা বান নেমে আসার পর থেকেই নেপালি সেনা ও পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজে ভারত-সহ কয়েকটি দেশও সহযোগিতা করছে। এখনও পর্যন্ত বিপর্যয় কবলিত এলাকা থেকে ১,৩০০-র বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে প্রায় ৫,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। ফলে বহু পরিবারের কাছে এখন DNA রিপোর্ট শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়। সেটিই হয়ে উঠেছে দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ উত্তর—প্রিয়জনের কী হয়েছিল, অন্তত সেই সত্যটা জানার শেষ আশ্রয়।


