Aaj India Desk, কলকাতা : শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় পাঠ্যক্রমের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের মনে বিভাজনের বীজ না পুঁতে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই স্কুলের সিলেবাসে একাধিক পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। (West Bengal School Syllabus)
‘সঠিক ইতিহাস’ পড়ানোর বার্তা
বর্তমান পাঠ্যসূচির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে রাজ্যের ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, আগামী প্রজন্ম যাতে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন প্রয়োজন। (West Bengal School Syllabus)
২০ জুনের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন
প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, টাটাদের রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হলেও ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্মের প্রেক্ষাপট যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব ও গঠনের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে কেন জানানো হবে না। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্ম যে সামাজিক ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা ভোগ করছে, তার পিছনে থাকা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিও শিক্ষার্থীদের জানা প্রয়োজন। (West Bengal School Syllabus)
পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকা পাঠ্যক্রমে যথাযথভাবে তুলে ধরার পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিহাসও ছাত্রছাত্রীদের জানানো দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের ইতিহাসের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক গঠনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, ইতিহাসের কোনও একটি দিক নয়, শিক্ষার্থীদের সামনে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা প্রয়োজন।
ফিরবে মাতঙ্গিনীর আত্মত্যাগের ইতিহাস?
স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলির মুখেও তিনি ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ঘটনাগুলি পাঠ্যক্রমে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষক দিবসের মঞ্চে শুধু ইতিহাসের পাঠ নয়, সামগ্রিকভাবে স্কুলশিক্ষার সংস্কারের কথাও বলেন শুভেন্দু। তবে নতুন স্কুল সিলেবাসে ঠিক কোন কোন বিষয় যুক্ত বা বাদ পড়বে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।


