Aaj lndia Desk, কাঠমান্ডু: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আকস্মিক জলস্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৪৪ জন। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কোনও সন্ধান মিলছে না। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
২৭৫ ভারতীয় নিখোঁজ, উদ্ধার ১৬৯ জন
নেপালের বন্যায় ভারতীয় নাগরিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, রসুয়া, নুয়াকোট-সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে এখনও ২৭৫ জন ভারতীয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে এখনও পর্যন্ত ১৬৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজার এলাকা থেকে অভিজিৎ সুরেশ পাওয়ার, তাঁর স্ত্রী দীপিকা পাওয়ার এবং তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে সমর্থকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করছে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। এছাড়া তিব্বত সীমান্ত দিয়ে আটকে পড়া ১ হাজার ৯০৭ জন ভারতীয় নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে নেপাল সরকারের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখছে ভারত।
নেপালের পাশে ভারত, পাঠানো হল ৯৫ টন ত্রাণ
বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে বড়সড় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পর সাতটি বিশেষ বিমানে প্রায় ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪ জন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ নেপালের উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন টানেল রেসকিউ বিশেষজ্ঞ, ১৯ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পাঁচজন চিকিৎসক রয়েছেন। নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বেইলি ব্রিজ ও ফরেনসিক কিট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধ্বংস সেতু-রাস্তা, নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক
বন্যার জেরে মধ্য নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩৫টি যান চলাচলের সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যেই ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিক ৪৫ বছরের কবীর মহার্জন এবং ৩০ বছরের সঞ্জয় সাহকে। মহার্জনকে কাঠমান্ডুর নেপাল আর্মি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সঞ্জয়ের চিকিৎসা চলছে নুয়াকোটের ত্রিশূলী হাসপাতালে। অন্যদিকে রসুয়ায় প্রায় ২৮০ জন এবং নুয়াকোটে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই নিখোঁজ মানুষ ও শিশুদের সন্ধান পাওয়ার চাপ বাড়ছে।


