Aaj India Desk, কাঠমাণ্ডু: বন্যার জল অনেক দূরে, ধ্বংসস্তূপও তাঁদের চোখের সামনে নয়। তবুও সংবাদপত্রের পাতায় আর টিভির পর্দায় নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ছবি দেখে মনটা অস্থির হয়ে উঠেছিল খুদে পড়ুয়াদের। তাই বড়দের সাহায্যের অপেক্ষা না থেকে নিজেদের পকেটমানি থেকেই একটু একটু করে টাকা বাঁচিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের আচামের একদল স্কুলপড়ুয়া। বিপর্যয়ের অন্ধকারে তাঁদের এই ছোট্ট উদ্যোগই যেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা হয়ে ফুটে উঠেছে। (Child Club Nepal)
নেপালের আচাম জেলার মঙ্গলসেন পৌরসভার অন্তর্গত ষোড়শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ইউনিক কেসি নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে বন্যা ও বিপর্যয়ের খবর পড়ছিল। দুর্গত মানুষের পরিস্থিতি দেখে তাঁদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর। ওই স্কুলের পড়ুয়াদের উদ্যোগে তৈরি হয় ‘চাইল্ড ক্লাব’। এলাকায় প্রায় ১,৫০০ পড়ুয়া এই ক্লাবের সদস্য হয়ে যায়। (Child Club Nepal)
গত সোমবার ক্লাবের সদস্যদের একটি বৈঠক হয়। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই উঠে আসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রসঙ্গ। সেখানেই ইউনিক প্রস্তাব দেয়, দুর্গত পরিবারের শিশুদের জন্য কিছু করা হোক। কিন্তু অর্থ আসবে কোথা থেকে? আলোচনার পর পড়ুয়ারাই নিজেদের পকেটমানি থেকে টাকা বাঁচিয়ে সেই অর্থ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। (Child Club Nepal)
পড়ুয়াদের সেই অর্থ সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে। কত টাকা শেষ পর্যন্ত জমবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সেই অর্থ বিপর্যস্ত পরিবারগুলির প্রয়োজনের কতটা পূরণ করতে পারবে, সেটিও সময়ই বলবে। তবে এই উদ্যোগের গুরুত্ব শুধু অর্থের অঙ্কে নয়। দূরের এলাকার কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। নেপালের এই পড়ুয়াদের উদ্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে, মানবিকতার জন্য বয়স বা সামর্থ্যের বড় প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু মাত্র পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা।


