Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নেপালে ২৬ অগস্টের হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) ভয়াবহতা এখনও কাটেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে (Natural Disaster) এখনও পর্যন্ত ১১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪৮৫৮ জন। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাগাতার তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতও উদ্ধার ও ত্রাণ (Relief) তৎপরতা বাড়িয়েছে। নেপালের উদ্দেশে ইতিমধ্যেই পঞ্চম ত্রাণবাহী বিমান পাঠিয়েছে ভারত সরকার। এই বিমানে রয়েছেন ১১ জনের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। পাশাপাশি রয়েছে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম। প্রায় ৫.৫ টন জরুরি ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।
সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে শতাধিক শ্রমিক
বিপর্যয়ের পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ১০০ জন কর্মী আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাদা, পাথর ও মাটির স্তর তাঁদের বেরনোর পথ আটকে দিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে সেনা ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
তবে উদ্ধারকাজ মোটেই সহজ হচ্ছে না। সুড়ঙ্গের ভিতরে জল ঢুকে যাওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকারী শ্যাফ্টগুলিতেও জল ও কাদা জমে রয়েছে। ফলে মাটি সরিয়ে ভিতরে পৌঁছনোর কাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। এখনও পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সময় যত যাচ্ছে, আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
কীভাবে ঘটল এত বড় বিপর্যয়?
বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমালয়ের উঁচু এলাকায় থাকা একটি হিমবাহের নীচের শক্ত শিলাস্তর হঠাৎ ভেঙে পড়ার পরই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করেও এই ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
শিলাস্তর ভেঙে পড়ার অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ভূকম্পন মাপার যন্ত্রে তা প্রায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পন তৈরি করে। পাহাড়ের উপর থেকে বরফ, মাটি, কাদা ও পাথরের বিশাল অংশ নেমে এসে তিব্বত ও নেপালের নদীগুলিতে পড়ে। এর ফলে আচমকাই নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। বহু জায়গায় জল বিপদসীমার অনেকটা ওপরে উঠে যায়। জলের তোড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও সেতু ভেসে যায়।
একাধিক নদীতে বিপদসীমার ওপরে জল
নেপালের হাইড্রোলজি ও মেটিওরোলজি দফতরের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। কেন্দ্রীয়, পশ্চিম ও পূর্ব নেপালের বেশ কয়েকটি নদী নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিন্ধুলি জেলার সুন কোশী, গোর্খার বুঢ়ী গণ্ডকী এবং দাদেলধুরার মহাকালী নদী ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। লামজুং জেলার ভুকুণ্ডেবেসীতেও মারস্যাংদী নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত ৬৫৪১ জনকে বিপদ থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


