Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখন ঘিরে ফের জোরালো হলো বিতর্ক। রাজনৈতিক স্লোগান ও কার্ল মার্ক্সের উক্তি লেখা দেওয়াল প্রথম দফায় সাদা রঙে ঢেকে দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের সেখানে লিখন দেখা যায়। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় ক্যাম্পাসের কয়েকটি দেওয়াল ফের সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। মাঝরাতে কারা এবং কার নির্দেশে এই কাজ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ।
রাত সাড়ে ১২টায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) এক পড়ুয়ার দাবি, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ খবর আসে, ৪ নম্বর গেট দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার কর্মী পরিচয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হলে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল হোয়াইটওয়াশ বা সাদা রং করার কাজেই তাঁরা এসেছেন। নিরাপত্তার কারণে পুলিশের কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলেও জানানো হয় বলে দাবি ওই পড়ুয়ার।
ফের সাদা রঙের প্রলেপ
রাত বাড়ার পর হস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা বাইরে এসে দেখতে পান, আগে নতুন করে লেখা কার্ল মার্ক্সের উক্তি-সহ একাধিক স্লোগানের উপর ফের সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেওয়ালগুলিতে লেখা বেশ কিছু অংশ ঝাপসা হয়ে যায়। এই কাজ ঘিরেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, রাতের অন্ধকারে কেন দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার কাজ করা হল এবং এর নির্দেশই বা কে দিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)ক্যাম্পাসের কয়েকটি দেওয়ালে লেখা কথিত ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের কয়েকটি দেওয়ালে নতুন স্লোগান ও উক্তি লেখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটার (OAT)-এর সদ্য চুনকাম করা দেওয়ালেও কার্ল মার্ক্সের একটি বক্তব্য লেখা হয়েছিল। তবে তার পর ফের দেয়ালটি সাদা রঙে ঢেকে দেওয়ায় বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় পুলিশ বা পুরসভার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের কথা এখনও সামনে আসেনি। ফলে কার নির্দেশে রাতে দেওয়াল সাদা করা হল, সেই প্রশ্নের উত্তরই আপাতত খুঁজছেন পড়ুয়া ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।


