Aaj lndia Desk, কলকাতা: জেলের ভিতরে কীভাবে ঢুকছে একের পর এক স্মার্টফোন, রাউটার কিংবা নগদ টাকা? হাই-সিকিউরিটি সেলের নিরাপত্তা নিয়েই যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আচমকা হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার দুপুর সওয়া ২টো নাগাদ প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জেলে ঢোকেন তিনি। আফতাব আনসারির সেল থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
প্রথমেই ঋষি অরবিন্দের সেলে
জেলে ঢুকেই ঐতিহাসিক ঋষি অরবিন্দের সেলে যান শুভেন্দু। সেখানে ঋষি অরবিন্দের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। ঐতিহাসিক সেলটিও ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সংশোধনাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইরে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন।
বন্দিদের দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তাঁদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে সরাসরি খোঁজ নেন তিনি। শুধু বন্দিদের সঙ্গে কথা বলাই নয়, জেলের আধুনিক কর্মশালাগুলিও ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা জামাকাপড়-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করেন। পরে কারাগার চত্বরে থাকা মন্দিরে গিয়ে পুজোও দেন শুভেন্দু।
আফতাবের সেলে কী মিলেছিল?
এই পরিদর্শনের সময়টা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, কয়েক দিন আগেই প্রেসিডেন্সি জেলের ১৪ নম্বর সেলে আচমকা তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ওই সেলেই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারি থাকেন। আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনার মূল চক্রী আফতাবের সেল থেকে উদ্ধার হয় একাধিক দামি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট রাউটার, ওটিজি কেবল এবং ৩১ হাজার টাকা নগদ।
প্রশ্ন উঠেছে, কড়া নিরাপত্তায় থাকা এমন একটি সেলের ভিতরে এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং নগদ টাকা পৌঁছল কীভাবে? বিষয়টি নিয়ে হেস্টিংস থানা এবং গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন।
নজরে জেলের ‘ঘুঘুর বাসা’
এখানেই শেষ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতর থেকে মোবাইল ফোন, ওয়াইফাই রাউটার, পেনড্রাইভ এবং নগদ টাকা উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে জেলের অন্দরে কোনও অবৈধ চক্র বা গোপন সিন্ডিকেট সক্রিয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অপরাধী ও কারা বিভাগের একাংশের গোপন আঁতাতের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলের ভিতরের অবৈধ সিন্ডিকেটের ‘ঘুঘুর বাসা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। বন্দিদের ডিজিটাল সুবিধা পাওয়ার পিছনে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকলে তা বন্ধ করার বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাই আফতাব কাণ্ডের পর প্রেসিডেন্সি জেলে মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। জেলের নিরাপত্তা, বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা এবং অন্দরের অনিয়ম সবকিছুই এখন নজরে।


