কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটের পর তৃণমূল ছেড়ে সদলবলে এনসিপিআই-তে যোগ। সংসদে আসন অদলবদলও হয়েছে। কিন্তু এখনও নতুন দলের সাংসদ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি বিদ্রোহী ২০ জনের (Rebel TMC MPs)। আর এরই মধ্যে তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
‘কেন তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হবে না?’
এই প্রশ্নের জবাব চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। মঙ্গলবারই সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে নিলেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদ (Rebel TMC MPs)।
ঘটনার সূত্রপাত বাদল অধিবেশন থেকেই। কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের পদ খারিজ করা হোক। একই দাবিতে লোকসভার স্পিকারকেও চিঠি দেন তিনি।
গত মাসে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সব পক্ষকে নোটিস দেয়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ২০ জন দলবদলু সাংসদকে নোটিস পাঠানো হয়। স্পিকারের কাছেও জানতে চাওয়া হয়, তাঁদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে।
এর পরই নড়েচড়ে বসেন এনসিপিআই সাংসদরা (Rebel TMC MPs)। স্পিকারের দপ্তর থেকে নোটিস পাওয়ার পর আইনি পরামর্শ শুরু হয়। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তাঁরা। দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে খবর।
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার লোকসভা সচিবালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে আরও তিন সপ্তাহ সময় চাইলেন ২০ সাংসদ (Rebel TMC MPs)। এনসিপিআইয়ের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সময় চাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন, কেন এত সময় চাওয়া হল? কী আইনি কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২০ সাংসদের সাংসদ পদ কি সত্যিই বাতিলের দিকে এগোচ্ছে, নাকি আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় আসতে চলেছে? তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদকে ঘিরে তাই দিল্লির রাজনীতিতে ফের বাড়ছে উত্তেজনা।


