Aaj India Desk, নদিয়া: নদিয়ার (Nadia) চাপড়ায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বৈঠক শেষ করে বেরনোর সময় তাঁর গাড়ির সামনে কালো পতাকা দেখান একদল বিক্ষোভকারী। একই সঙ্গে ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। এই ঘটনাকে ঘিরে মহুয়া মৈত্র এবং চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখের (Jeber Sekh) মধ্যে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য চাপানউতোর।
বিক্ষোভের পর মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, চাপড়ার কর্মী বৈঠক সফল হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক করা হয়েছে। তবে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় সরাসরি জেবের শেখ এবং বিজেপির (BJP) দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সাংসদ। তিনি বলেন, “তৃণমূলের চিহ্নে জিতে যারা দল ছেড়েছে, তারা ‘বেইমান’।” একইসঙ্গে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা গোপাল দাস এবং স্থানীয় বাসিন্দা অম্বরজিৎ রায় মহুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় মাদক কারবার, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক অশান্তির জন্য সাংসদের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি, হিন্দু দেবদেবীকে অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদেও এই বিক্ষোভ হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও পরিকল্পিত কর্মসূচি নয়, স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ থেকেই এই প্রতিবাদ।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখ। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তাঁরা এলাকার সাধারণ মানুষ। জেবেরের কথায়, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে চাপড়ার মানুষ বিপুল ভোটে মহুয়া মৈত্রকে জয়ী করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন বিধায়ক।
জেবের শেখের অভিযোগ, সাংসদ হওয়ার পর মহুয়া মৈত্র এলাকার মানুষের জন্য প্রত্যাশামতো কাজ করেননি। আর সেই কারণেই এবার স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের সামনে তাঁকে পড়তে হয়েছে। ফলে চাপড়ার এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মহুয়া মৈত্র বনাম জেবের শেখের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এল।


