Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) দীর্ঘদিন ধরে চলা CJP-র আন্দোলন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বাইরে থেকে আন্দোলনটি যতটা দৃঢ় ও সংগঠিত বলে মনে হয়েছিল, তার ভিতরের পরিস্থিতি নাকি সবসময় তেমন ছিল না। আন্দোলনের সময় নেতৃত্বের একাংশের মানসিক চাপ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরে আসার চেষ্টা নিয়ে এবার মুখ খুললেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)।
ইউটিউবার প্রখর গুপ্তার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার একটি পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান সোনম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ যত এগিয়েছে, ততই দলের কয়েকজন নেতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। এমনকি কীভাবে আন্দোলন শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি
তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে তরুণদের অংশগ্রহণে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে সোনম ওয়াংচুক এই প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি ২৬ দিন ধরে অনশন করেছিলেন।
সোনম জানিয়েছেন, কর্মসূচির প্রথম দিকে যন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতি যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আট-নয় দিন পেরনোর পর ধীরে ধীরে সেই ভিড় কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে নেতৃত্বের উপরেও। আন্দোলন কতটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে দলের ভিতরে সংশয় বাড়ছিল বলে দাবি তাঁর।
তাঁর কথায়, CJP-র প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস-সহ কয়েকজন নেতা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সোনমের দাবি, তাঁদের কেউ কেউ আন্দোলন বন্ধ করার সম্ভাব্য পথ জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে কর্মসূচি শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যায়, সেই বিষয়েও তাঁর পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।
‘এক্সিট প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা
আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একাধিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সোনম। তাঁকে অনশন থেকে সরানোর বিষয়টিও সেই আলোচনার অংশ ছিল বলে দাবি তাঁর।
এই প্রসঙ্গেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নাম আলোচনায় এসেছিল বলে জানান তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, আন্দোলন থেকে সরলেও যাতে সেটি নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পরিণত না হয়, সে রকম একটি পথ খোঁজা হচ্ছিল।
তবে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। ১৮ জুলাই পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে দেশবাসীর সমর্থন চেয়ে বার্তা দেন তিনি।
২০ জুলাই সংসদের দিকে যাওয়ার কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হিংসার ঘটনার পর আন্দোলন নতুন করে গতি পায় বলে জানিয়েছেন সোনম। তাঁর দাবি, ওই সময়ের আগেই নেতৃত্বের একাংশ প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিবাদ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
আন্দোলনে নামার আগে নেতৃত্বের সক্ষমতা যাচাই
সোনমের বক্তব্য, মূল কর্মসূচি ২০ জুন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি তখন সুইজারল্যান্ডে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে ছিলেন। সেই কারণে ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই কয়েকদিন তিনি তরুণ নেতৃত্ব কীভাবে পুরো কর্মসূচি পরিচালনা করে, তা পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
পরে পরিস্থিতি বিচার করেই তিনি অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই যন্তর মন্তরের আন্দোলনের প্রকাশ্য ছবির পাশাপাশি নেতৃত্বের ভিতরের টানাপোড়েনের কথাও সামনে এসেছে। এখন সোনমের এই দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে CJP-র সেই দীর্ঘ আন্দোলন নিয়ে।


