Aaj India Desk,শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা নিয়ে নতুন করে তৈরি হল চাপানউতোর। সোমবার সকাল থেকেই হিলকার্ট রোডে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)-র কার্যালয়ের সামনে চোখে পড়ল মহিলাদের দীর্ঘ লাইন। যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা হাতে পাননি, তাঁদের একাংশ নিজেদের অভিযোগ জানাতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে সেখানে পৌঁছন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে নামতে হয়।
রবিবার শঙ্কর ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পরই এই জমায়েতের সূত্রপাত। কলকাতায় যাওয়ার আগে তিনি শিলিগুড়ি বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি, তাঁরা যেন সোমবার দুপুরের মধ্যে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে এসে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার সকাল থেকে বহু মহিলা সেখানে হাজির হন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ি শহরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। তবে ভাতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ রয়েছে আরও অনেকের। তাঁদের বক্তব্য, যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করার পরেও আবেদন আটকে রয়েছে বা তাঁরা সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন। এই সমস্যা নিয়ে এর আগে পুরনিগম এবং মহকুমাশাসকের দফতরেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
এদিন দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়। ভিড় সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বিধায়ক কার্যালয়ের কর্মীরাও নথি সংগ্রহ এবং আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজে হাত লাগান।
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং বড় বাড়ি বা গাড়ি রয়েছে এমন পরিবারের কিছু মহিলাও ভাতা পাচ্ছেন। অথচ যাঁদের আর্থিক প্রয়োজন বেশি, তাঁদের অনেকে এখনও অপেক্ষায়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই হয়নি এবং প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি।
এর আগে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাপ্রাপকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের দেওয়ালে স্টিকার লাগানোর কর্মসূচি নিয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর দাবি ছিল, সরকারি তালিকায় যোগ্য ব্যক্তির নাম থাকলেও যাতে কোনও কারণে তাঁরা সুবিধা থেকে বাদ না যান, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভাতা না পাওয়া মহিলাদের কাছ থেকে সরাসরি নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হল।


