Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এখনও নিখোঁজ ৪,২৪৭ জন, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি। তবে এর মধ্যেও সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের নিয়ে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯৩৩ জন ওই প্রকল্পগুলিতে আটকে রয়েছেন। (Hydropower Tunnel Rescue)
উদ্ধারকারী দলগুলি সোমবার রুসওয়া-সহ বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছনোর চেষ্টা করে। বিশাল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের মুখ আটকে দিয়েছে। ফলে ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি সরানোর পাশাপাশি দড়ি ও কাঠের অস্থায়ী সেতু ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। নেপাল সেনার মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, “সুড়ঙ্গের ভিতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।” (Hydropower Tunnel Rescue)
চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজে থাকা গাইড আশিস গুরুংয়ের অভিজ্ঞতাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। তাঁর কথায়, সুড়ঙ্গের ভিতরে কোথাও কোথাও কাদা বুক পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। প্রায় ১৩০ মিটার ভিতরে যাওয়ার পর আরও ধ্বংসস্তূপ এবং মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে উদ্ধারকারীদের আশা, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর কিছু নিরাপদ জায়গায় কেউ কেউ আশ্রয় নিয়ে এখনও বেঁচে থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনার কারণেই উদ্ধারকারী দলগুলি দ্রুত সুড়ঙ্গগুলিতে পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।(Hydropower Tunnel Rescue)
গত শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় একাধিকবার উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে বন্যার জেরে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে নদীতে নতুন করে জল ঢোকার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে সোমবার আবহাওয়া তুলনামূলক ভালো থাকায় উদ্ধারকাজের গতি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রসুয়ার জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার। প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন স্থানীয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরাও। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূখণ্ড এবং নতুন বিপদের আশঙ্কা সত্ত্বেও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।


