Aaj India Desk, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই নন্দীগ্রামের পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক পরিষেবা নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, আবাস ও অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা এবং ২.৫ লক্ষ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উন্নয়নের এই ঘোষণার মাঝেই বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভোট না দেওয়া’ নিয়ে মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। (Nandigram Development)
কী কী উন্নয়নের ঘোষণা করা হয়েছে?
নন্দীগ্রামে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্র, হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতুর কাজের অগ্রগতি, রায়াপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যাসংখ্যা ৩০ থেকে ৬০ করা, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার, নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে ‘মাতৃ মা’ ভবন ও পুলিশ মর্গ চালু সহ একাধিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২.৫ লক্ষ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, ৮৭ হাজার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা কার্ড, আবাস যোজনায় ৭,৩০০ উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা, ১১,৭০০ নতুন বাড়ির জন্য প্রথম কিস্তি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। (Nandigram Development)
উন্নয়নের মঞ্চে কেন উঠল ভোটের প্রসঙ্গ?
এতগুলি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করার পর বক্তব্যের এক পর্যায়ে নন্দীগ্রামের কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “কেন্দ্রমারি, মহম্মদপুর, শামসাবাদে যে সংখ্যালঘুরা বসবাস করেন, আমাকে একটিও ভোট দেননি। আজ বাড়ি থেকে টাকা নিন, উৎসব করুন এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড নিন।” এই মন্তব্যের পরই স্বাভাবিকভাবে সামনে আসছে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময়কার বক্তব্য। জয়ের পর শুভেন্দু বলেছিলেন, “যারা ভোট দেননি, তারা গড়াগড়ি দিলেও কোনও সুবিধা পাবেন না।” ফলে নন্দীগ্রামে বর্তমান উন্নয়নমূলক ঘোষণার সঙ্গে অতীতের ওই রাজনৈতিক বক্তব্যের তুলনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কি ভোটের সমীকরণের ঊর্ধ্বে থাকবে? নাকি রাজনৈতিক বক্তব্যই ফের উন্নয়নের আলোচনার সঙ্গে মিশে যাবে? (Nandigram Development)
রাস্তা, দমকল, হাসপাতাল, আবাসন, স্বাস্থ্য বিমা জাতীয় প্রকল্প নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিক কাকে ভোট দিচ্ছেন, সেটা কোনও শর্ত হতে পারে না। নন্দীগ্রামের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভোট না দেওয়া’ নিয়ে মন্তব্য তাই রাজনৈতিক বিতর্ককে ফের সামনে এনেছে। এখন ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয় এবং সমানভাবে সবার কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছয় কিনা সেদিকেই নজর।


