Aaj India Desk,কলকাতা: পুলিশি দফতরগুলিতে সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, নির্দিষ্ট দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আগের সরকারের সময়ে তাঁদের এমন বেশ কিছু জায়গায় কাজে লাগানো হয়েছিল, যেখানে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং গোপন নথি নিয়ে কাজ হয়। জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম, গোয়েন্দা বিভাগ থেকে শুরু করে নবান্নের পুলিশ অফিস পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এখন গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ডিরেক্টরেট। বিভিন্ন জেলার পুলিশকে সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড এবং অস্থায়ী হোমগার্ডদের বর্তমান কর্মস্থল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোথায় কে কী দায়িত্ব পালন করছেন, সেই তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। তালিকা পর্যালোচনার পর নির্ধারিত কাজের বাইরে থাকা অনেক কর্মীকেই তাঁদের বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে ট্রাফিক গার্ড কিংবা আউটপোস্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, আগের অনেক সময়ে থানার একাধিক নিয়মিত কাজেও এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছিল। থানায় আসা অভিযোগ নথিভুক্ত করা, জেনারেল ডায়েরি লেখা, কেস ডায়েরি প্রস্তুত করার মতো কাজ তাঁদের দিয়ে করানোর দাবি উঠেছে। এমনকি কম্পিউটারে এফআইআরের কপি তৈরি এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তবে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে গোয়েন্দা শাখায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে। গোয়েন্দা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও কিছু সিভিক ও অস্থায়ী কর্মীকে সেই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ কন্ট্রোল রুম নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শিফট অনুযায়ী সিভিক কর্মীরা সেখানে দায়িত্ব সামলাতেন বলে দাবি। পাশাপাশি নবান্নের পুলিশ অফিসেও কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে পুলিশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও গোপনীয় বিষয় নিয়ে কাজ হওয়ায় তাঁদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের আরও একটি দিক হল, নিয়োগের সময় সিভিক ভলান্টিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য কাজে লাগানোর কথা ছিল। আদালতের নির্দেশেও তাঁদের পুলিশের সহায়ক হিসেবেই কাজ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সীমা না মেনে বিভিন্ন শাখায় তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তোলাবাজির অভিযোগও উঠেছিল বলে দাবি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেই অভিযোগগুলিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর পুরো ব্যবস্থাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন জেলায় কতজন সিভিক, হোমগার্ড ও অস্থায়ী হোমগার্ড রয়েছেন এবং তাঁরা কী কাজ করছেন, তা খতিয়ে দেখেই পোস্টিং বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মূল লক্ষ্য, নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার বন্ধ করে তাঁদের কাজের সীমা ফের স্পষ্ট করা।


