29 C
Kolkata
Sunday, August 30, 2026
spot_img

চাকরির টোপ থেকে কিডনি পাচার! রেট চার্ট হাতে ধরা পড়ল রাসেল, সামনে এল আন্তর্জাতিক যোগ

Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলায় কিডনি পাচার (Kidney Trafficking) চক্রের হদিশ, সামনে এল বাংলাদেশ (Bangladesh) যোগ। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে রাসেল আহমেদ (Rasel Ahamed) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে। পুলিশের দাবি, এর আগেও কিডনি পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল রাসেল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির আটঘড়া ফুলতলা এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)। শনিবার রাতে গ্রেফতারের পর তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আগেও কিডনি পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার

রাসেলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। সেই সময় তদন্তে উঠে আসে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে রাসেল বেআইনিভাবে আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করেছিল। এরপর এ রাজ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিল সে। অভিযোগ, ধীরে ধীরে কিডনি পাচারের একটি চক্রও গড়ে তুলেছিল রাসেল।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক যুক্ত থাকতে পারে। কয়েকদিন আগে এই মামলায় প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি পাচারচক্রের অন্যতম মিডলম্যান বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই রাসেলের নাম সামনে আসে। এরপরই রাসেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

কীভাবে চলত পাচারের কারবার?

গত ১৮ অগস্ট এক ব্যক্তির বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ এবং গ্রেফতার করা হয় প্রভাসকে। তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আর্থিকভাবে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলিকে এই চক্রের সদস্যরা মূলত নিশানা করত।

অভিযোগ, মোটা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হত। এরপর নানা কৌশলে তাঁদের কিডনি নেওয়া হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রাসেলের কাছ থেকে রেট চার্ট উদ্ধার

তদন্তে রাসেলের কাছ থেকে একটি ‘রেট চার্ট’ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের বেশ কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে। সেই কাগজপত্রে কোন হাসপাতালে কতগুলি কিডনির প্রয়োজন রয়েছে, তার উল্লেখ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এই নথিগুলিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই প্রান্তে এই চক্রের যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। রবিবারই তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন