Aaj India Desk, মুম্বাই : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Floods) তাণ্ডবের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরল মহারাষ্ট্রের ৪১ পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা সেরে ফেরার পথে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। শনিবার মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছতেই পরিজনদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর প্রিয়জনদের চোখের সামনে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মহারাষ্ট্র প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য থেকে মোট ৪০৪ জন পর্যটক নেপাল সফরে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৩৮ জন পর্যটকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। সকলকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির ছবি। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪-এ পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২,৪৯৮ জন। বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আচমকাই হড়পা বান নেমে আসে। প্রবল জলস্রোতে একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি তিব্বত সীমান্তের গিরং এলাকার অভিবাসন দফতরও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কৈলাস যাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রেই পর্যটকদের নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র যাচাই করা হয়।
মুম্বইয়ে ফেরা পর্যটকদের একজন স্মিতা পাওয়ার জানিয়েছেন, তাঁদের দলের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় যাত্রা পিছিয়ে যায়। সেই বিলম্বই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় বলে মনে করছেন তাঁরা। কারণ, যে সময়ে তাঁদের গিরং সীমান্তে পৌঁছনোর কথা ছিল, প্রায় সেই সময়েই হড়পা বান আছড়ে পড়ে।
বিপদের সেই মুহূর্তের কথা মনে করে স্মিতার বক্তব্য, তাঁদের বেঁচে ফেরাটা কার্যত অলৌকিক। অন্যদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টা পরিবারের কাছে চরম উৎকণ্ঠার ছিল। স্ত্রী শ্যামা শাঠ নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি পেয়েছেন তাঁর স্বামী সুবোধ শাঠও। দীর্ঘ দুশ্চিন্তার শেষে ৪১ পর্যটকের ঘরে ফিরল স্বস্তির নিঃশ্বাস।


