29 C
Kolkata
Sunday, August 30, 2026
spot_img

নেপালের হড়পা বানের পর ভারতে ভেসে আসছে একের পর এক মৃতদেহ! বয়ে আনছে বিপর্যয়ের নতুন বার্তা?

লখনউ: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash flood) রেশ এখনও কাটেনি। মৃতের সংখ্যা ৬০০ পেরিয়েছে, নিখোঁজ বহু মানুষ। স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে অসংখ্য পরিবারের। তারই মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশে নতুন আতঙ্ক! নদীতে ভেসে আসছে মৃতদেহ, আর এবার ভয়াল রূপ নিয়েছে মন্দাকিনী।

জানা গিয়েছে, যোগী রাজ্যের চিত্রকূটে বিপদসীমার অনেকটা ওপরে দিয়ে বইছে মন্দাকিনী। গত ২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর জলস্তর পৌঁছে গিয়েছে নতুন উচ্চতায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলকিত গর্গ জানিয়েছেন, নদীর জলস্তর ১৩৪.০২ সেন্টিমিটারে পৌঁছেছে। ২০০৩ সালে নথিভুক্ত ১৩৪ সেন্টিমিটারের রেকর্ডও এবার ছাপিয়ে গিয়েছে জল। যেখানে বিপদসীমা ১২৬ সেন্টিমিটার, সেখানে জলস্তর পৌঁছেছে তার অনেক ওপরে।

আর সেই জলই এবার ঢুকতে শুরু করেছে চিত্রকূটের রামঘাট এলাকায়। প্লাবিত হয়েছে এলাকা। দোকানপাট থেকে মন্দির, মঠ, জল ঢুকে পড়ছে একের পর এক জায়গায়। যে রাস্তাগুলিতে প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত, তার বেশ কিছু অংশ এখন কার্যত জলপথ। আটকে পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে নামানো হয়েছে নৌকা।

শুধু রামঘাট নয়, উন্হা, গোবারিয়া, বাহাদুর-সহ একাধিক গ্রামেও বন্যার জল ঢুকেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বেড়েছে একটি সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনায়। রামঘাট-হনুমানধারা রুটের একটি ব্রিজ প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে বলে খবর।

এরই মধ্যে কারভিতে মন্দাকিনী সেতুর ওপর দিয়েও জল বইতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে ৩৫-এ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে রাস্তায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। অর্থাৎ, নদীর জল শুধু ঘরবাড়ি বা দোকানপাটে আটকে থাকেনি! প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও।

উদ্ধারকাজে বড়সড় মোতায়েন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। চারটি এনডিআরএফ, চারটি এসডিআরএফ এবং দুটি পিএসি দল মোতায়েন করা হয়েছে। আরও কর্মী ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘরছাড়া মানুষদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চিত্রকূটের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও পর্যালোচনা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে কোনও দুর্ভোগে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরপ্রদেশের ২৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন ১ লক্ষ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ২৫১টি গ্রাম। ইতিমধ্যেই ১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি হয়েছে ৪৪৭টি ত্রাণকেন্দ্র। তবে উত্তরপ্রদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং জানিয়েছেন, নেপালের বন্যা (Nepal Flash flood) পরিস্থিতির কারণে উত্তরপ্রদেশে কোনও ঝুঁকি নেই। যদিও প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নেপালে এখনও নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়

এদিকে নেপালের বিপর্যয়ের (Nepal Flash flood) ভয়াবহতার মধ্যেই ভারতীয়দের নিয়েও উদ্বেগ অব্যাহত। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার প্রশংসা করেছে নেপাল। কঠিন সময়ে ভারতের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে কাঠমান্ডুর তরফে। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল ভারতের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়েছেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ভারত থেকে তিন দফায় ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, একদিকে সীমান্তের ওপারে বিপর্যস্ত নেপাল, অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের নদীগুলির ভয়াল রূপ, দুই দিকেই চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের লড়াই।

নেপালের বিপর্যয়ের পর এবার নজরে মন্দাকিনী

নেপালের হড়পা বানের (Nepal Flash flood) পর প্রশাসনের বার্তা, আতঙ্ক নয়, সতর্কতা। উদ্ধারকারী দল মোতায়েন, ত্রাণকেন্দ্র প্রস্তুত এবং জলস্তরের উপর নজরদারি চলছে। নেপালের বিপর্যয়ের অভিঘাত, নদীতে ভেসে আসা মৃতদেহ আর তার মধ্যেই ২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে মন্দাকিনীর ফুলেফেঁপে ওঠা! হিমালয় থেকে উত্তরপ্রদেশ, জলের এই ভয়াল অধ্যায় এখন নজরে গোটা দেশের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন