Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নেপালে ফের নতুন করে আতঙ্ক। শুরু হয়েছে বৃষ্টি, তার মধ্যেই ভোটেকোশী নদীতে (Bhote Koshi River) দ্রুত বাড়ছে জলস্তর। ফলে ইতিমধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flash Flood) বিপর্যস্ত দেশটিতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৩৪ হয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় ২,৪০০ জন। সব মিলিয়ে নতুন করে বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই রবিবার পাহাড়ি এলাকার ভোটেকোশী নদীতে ফের জল বাড়তে শুরু করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে থাকা দলগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে নেপাল সরকার।
হিমালয় সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে যাওয়া ভোটেকোশী নদীতে বুধবার ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেয়। এর জেরে মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। তারপর থেকেই সেনা এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক মৃতদেহ। কিন্তু নতুন করে বৃষ্টি এবং নদীর জল বাড়তে থাকায় সেই কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, “ভোটেকোশী নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ও উদ্ধারকারী দলকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
রসুওয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ান—এই চার জেলায় উদ্ধার অভিযান চলছে। নদীর জল বাড়ায় সেখানে কর্মরত উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হলে দ্রুত সাধারণ মানুষকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে NDRRMA।
বর্তমানে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশপথে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যার জেরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে শনিবার রাতেও অভিযান চালিয়ে গিয়েছে নেপালি সেনা।
ভারতীয় সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নিরাপত্তাকর্মীরা সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে বের করে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতাল, বীর হাসপাতাল এবং ধুনচের রসুওয়া জেলা হাসপাতালে মোট ২৪২ জন গুরুতর আহতকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৩৫ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আরও ২৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৭৫ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে বড় ধরনের বরফ ও পাথরের ধস থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। এর ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ জল ও কাদার স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এখনও সেই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। তার মধ্যেই ভোটেকোশী নদীতে ফের জল বাড়তে শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে উদ্ধারকারী দল—সব মহলেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


