Aaj India Desk, কলকাতা : দেহদান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। শনিবার যাদবপুরের একটি মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। ‘ব্রেন ডেথ’ রোগীর ক্ষেত্রে অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে তিনি মরণোত্তর দেহদানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান জরুরি, আর মৃত ব্যক্তির দেহ চিকিৎসাশিক্ষার কাজে দান করা যেতে পারে।
কী বলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee) আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অ্যানাটমি শিক্ষায় AI, 3D অ্যানিমেশন এবং আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির ভূমিকার কথা বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই মরণোত্তর দেহদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহদানের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন তিনি।
বিজ্ঞান মঞ্চের আপত্তি
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ তা ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে দাবি করে। সংগঠনের বক্তব্য, AI, 3D অ্যানিমেশন বা আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি চিকিৎসাশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি মানবদেহের উপর অ্যানাটমি শেখার সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাতেও মরণোত্তর দেহের ব্যবহার রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
এবার কী ব্যাখ্যা মন্ত্রীর?
শনিবার নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee) বলেন, ‘‘যাঁরা ব্রেন ডেড, কিন্তু মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি, তাঁদের দেহ যদি দান করার প্রয়োজন হয়, তা করবেন না। সে ক্ষেত্রে অঙ্গদান করুন।’’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে পুরো দেহ দান করার সঙ্গে অঙ্গদানের বিষয়টি এক করে দেখা উচিত নয়। যাঁরা ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, তাঁদের দেহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কাজে দান করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘‘এই দু’টি বিষয় সচেতনতা তৈরির জন্য বলা হয়েছিল। কোথাও হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেহদানের প্রয়োজন নেই এ কথা কোনও সময়েই বলা হয়নি।’’
বিতর্কের মুখে পড়ে এবার ব্যাখ্যা দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর মন্তব্য ঘিরে যে প্রশ্ন ইতিমধ্যে উঠেছে, তা মন্ত্রীর সাফাইয়ের পরও পুরোপুরি থামেনি। ফলে এই নতুন ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় সেটাই এখন দেখার।


