Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ভাঙড়ে ফের প্রকাশ্যে সিপিএম-আইএসএফের সংঘাত। আবাস যোজনার ঘরের সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা গড়াল হাতাহাতি এবং লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের হাতিশালা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দু’পক্ষেরই বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। (CPM ISF Clash)
আবাসের সমীক্ষা ঘিরেই বচসার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে খবর, হাতিশালা এলাকায় আবাস যোজনার ঘরের সমীক্ষার কাজ চলছিল। সেই সময়ই কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সিপিএম এবং আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি হলেও পরে তা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই বিবাদ আরও বড় আকার নেয় বলে স্থানীয়দের দাবি। (CPM ISF Clash)
কার্যালয় দখল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা
সমীক্ষা ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই রাজনৈতিক কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিবাদ বাধে। আইএসএফের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সিপিএমের বিরুদ্ধে। (CPM ISF Clash)
বচসা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের লাঠি হাতে একে অপরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে ভাঙড়ের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় জোটের দুই শরিকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই সংঘর্ষের অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ভাঙড়ে বাম-আইএসএফের রাজনৈতিক সমীকরণ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সংগঠনের প্রভাব, স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীদের সক্রিয়তা নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হলে তার প্রভাব জোটের উপরেও পড়তে পারে। এ দিনের ঘটনা তাই শুধুমাত্র একটি স্থানীয় গণ্ডগোল হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, উপরতলায় জোট থাকলেও নিচুতলায় কি তৈরি হচ্ছে দূরত্ব?


