Aaj India Desk, কলকাতা : কেউ অপেক্ষায় প্রিয়জনের ফোনের, কেউ আবার প্রশাসনের কাছ থেকে আসা একটি নিশ্চিত খবরের। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকেই উদ্বেগে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবার। কখনও মিলছে বিচ্ছিন্ন খবর, আবার পরক্ষণেই তৈরি হচ্ছে নতুন উৎকণ্ঠা। এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি দিয়ে নিখোঁজদের তালিকায় থাকা বসিরহাটের একটি পরিবারের দুই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে কাঠমান্ডুতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই কাঠমান্ডুতে টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। (Kathmandu Rescue)
শুক্রবার ভবানী ভবনে অনলাইন বৈঠকে পরিস্থিতি ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি মিললে শনিবারই রাজ্য থেকে একটি দল কাঠমান্ডুতে পাঠানো হবে। ওই দল নেপাল প্রশাসন, ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। (Kathmandu Rescue)
কাঠমান্ডুতে থাকা বসিরহাটের দুই পর্যটককে দ্রুত বিমানে রাজ্যে ফেরানোর জন্য বসিরহাট থানার আইসি-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিখোঁজ ৩৫ জনের মধ্যে রয়েছেন তারকেশ্বরের বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত। তিনি মানসসরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পরিবারের মতোই বাকি নিখোঁজ পর্যটকদের পরিজনেরাও এখন প্রশাসনের কাছ থেকে নিশ্চিত খবরের অপেক্ষায়। (Kathmandu Rescue)
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে প্রায় ৫০০ জন আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ পর্যটক কেউ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ভারতীয় দূতাবাস ও বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সেই তালিকা হাতে এলেই নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজ্যের কন্ট্রোল রুম। কেন্দ্র ও নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, “বুধবার রাত থেকে আমরা কার্যত জেগে রয়েছি। আপনারা যেমন চিন্তায় আছেন, এই চিন্তা শুধু আপনাদের নয়, আমাদের সকলের।” নিখোঁজদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই এখন রাজ্য প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


