Aaj lndia Desk,কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দফতরে পুলিশের যাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা শুক্রবারও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সেই আবহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)বিরুদ্ধে সরব হলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ( Dillip Ghosh)।
দিলীপের বক্তব্য, রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন আগের পরিস্থিতি নেই। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন দিলীপ।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে দাবি তাঁর। কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও আইন থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে সামনে রেখে দিলীপের কটাক্ষ, প্রশাসনের উপর কারও ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিন শেষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গও উঠে আসে দিলীপের বক্তব্যে। পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ তিনি খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিজেদের মতো করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্যামাক স্ট্রিটে বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। দিলীপের বক্তব্যে সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। তিনি বলেন, আইন মেনে চললে কারও সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাতের কারণ থাকবে না। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্রশাসনের আরও দৃঢ় অবস্থান দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে শুক্রবার যাদবপুরে রাখিবন্ধন উপলক্ষে বড় কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ‘বন্দেমাতরম’ গানে অংশ নেবেন। রাখিকে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
যাদবপুরে কিছু মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগ করে সেখানে জাতীয়তাবাদের বার্তা আরও জোরালো করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন দিলীপ। রাখিবন্ধন এবং ‘বন্দেমাতরম’ কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।


