কলকাতা: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash flood) অভিঘাত এবার অনুভূত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। ফরাক্কা ব্যারেজে (Farakka Barrage) ক্রমশ বাড়ছে জলস্তর, গঙ্গা তীরবর্তী নিচু এলাকায় শুরু হয়েছে সতর্কতামূলক মাইকিং। একই সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের উদ্বেগ, নেপালের রসুয়া জেলায় এখনও ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, যদিও ২১ জনকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে।
ফরাক্কায় কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
ফরাক্কা ব্যারেজ (Farakka Barrage) কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম—দুই দিকেই জলস্তর বেড়েছে।
ফরাক্কার জলস্তর (বুধবার → বৃহস্পতিবার)
- ডাউনস্ট্রিমে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি +০.৪০ ফুট
- আপস্ট্রিম: ৭৬.৬০ ফুট
- বুধবার: ৭৬.৩৫ ফুট
- ডাউনস্ট্রিম: ৭৫.২০ ফুট
- বুধবার: ৭৪.৮০ ফুট
পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও জল বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান-সহ গঙ্গা তীরবর্তী নিচু এলাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। মৎস্যজীবীদের নদীতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক কী জানাল?
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, রসুয়া জেলার পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল (Nepal Flash flood)। ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৭৩ জন ভারতীয় কর্মী-সহ বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবরগামী একাধিক তীর্থযাত্রী দলও এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বর্তমানে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাঁদের মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরল এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটক দল। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকরাও এই তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ২১ জন ভারতীয়কে দ্রুত কাঠমান্ডু হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জরুরি হেল্পলাইন
নেপালে আটকে পড়া বা নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারের জন্য ভারতীয় দূতাবাস দুটি জরুরি নম্বর চালু করেছে:
- +৯৭৭ ৯৮৫১৩১৬৮০৭
- +৯৭৭ ৯৭০৯১০৭৫০০
এছাড়া নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের টোল-ফ্রি ১২৩৪, হটলাইন ১১৪৪ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ ৯৮৫১২৮৯৪৪৫ নম্বরেও সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
হিমালয়ের পাহাড়ে শুরু হওয়া এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এখন সীমান্ত পেরিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাংলাতেও! একদিকে বাড়ছে গঙ্গার জল, অন্যদিকে এখনও অধরা শত শত ভারতীয়র খোঁজ।


