Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)‘বন্দে মাতরম’(Vande Mataram) গাইতে দেওয়া হয় না এবং জাতীয় পতাকা (National Flag) উত্তোলনেও বাধা দেওয়া হয়—কয়েকদিন আগেই এমন অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চলেছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে এই কর্মসূচি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।আগামী শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি মোড়ে ‘সহস্র কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি। বিকেল সাড়ে তিনটেয় ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা শুভেন্দু অধিকারীর।
যাদবপুর নিয়ে আগেই সরব শুভেন্দু
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই (SFI) এবং এবিভিপির (ABVP) সংঘর্ষের পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ ছিল, যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা তোলার ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে। এমনকী ১৫ অগাস্ট পালন, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানো এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের ঢোকার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। তাঁর কথায়, সেখানে ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ গাওয়া হবে। একইসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনাকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রবাদের পক্ষে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
এর আগে ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠানেও একই সুরে বক্তব্য রাখতে দেখা যায় শুভেন্দুকে। তিনি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্রবাদের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূলকেও আক্রমণ করেছিলেন শুভেন্দু। বামেদের উদ্দেশে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত আন্দোলন করছেন এবং যাদবপুরের ঘটনায় সরব হচ্ছেন, তাঁদের এতে কোনও রাজনৈতিক সুবিধা হবে না। একইসঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করে বাম বা তৃণমূল—কোনও পক্ষই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে না।


