Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: ভারতে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD)। সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাভাষী মুসলিমদের পাশাপাশি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, দলিত এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট প্রকাশের পরই তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
কোন বিষয় নিয়ে উদ্বেগ কমিটির
ভারতীয় সময় মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত কমিটির প্রেস নোটে বলা হয়েছে, দেশের একটি বড় অংশের মানুষের অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য, আক্রমণ এবং বিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি এবং রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
হেট স্পিচ ও হেট ক্রাইম রুখতে বার্তা
রাষ্ট্রসংঘের কমিটি ভারতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, কোনও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বা আক্রমণের অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ হওয়া দরকার।
রোহিঙ্গা ও আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েও নির্দেশ
রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও রিপোর্টে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বন্ধ করার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে বহিষ্কার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীকে এমন জায়গায় জোর করে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তাঁর জীবন বা স্বাধীনতা গুরুতর বিপদের মুখে পড়তে পারে।
রিপোর্ট সরাসরি নাকচ ভারতের
রাষ্ট্রসংঘের এই পর্যবেক্ষণ অবশ্য মেনে নেয়নি ভারত। রিপোর্ট প্রকাশের পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গ, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাকের যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে, সেটি এই রিপোর্টে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষণ এবং ভারতের পাল্টা অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


