Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে দুধ গরম করা নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ফের সরকারের সমালোচনার ঝড় উঠেছে সমাজ মাধ্যমে। সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বেআইনি বসবাস, ফুটপাথ দখলদারি ও পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তোপ দাগলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাথ দখল এখন এক ধরনের ‘ফ্যাশন’-এ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কায়েমি স্বার্থ ও লাভের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নাম না নিয়েই রাজ্যের আগের সরকারে থাকা বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থের কারণেই ফুটপাথে এখনও লোক বসবাস করে। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই ফুটপাথের বেআইনি বসবাস ও দখলদারি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “যাঁরা সেখানে বসবাস করেন, তাঁদের আসল সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কায়েমি স্বার্থ ও লাভই এখানে প্রধান ভূমিকা নেয়। আর সেই কারণেই ফুটপাতে বেআইনি বসবাস বা দখলদারি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হয় না।”
অন্যদিকে কলকাতায় যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়লেও পথচারীদের জন্য নিরাপদ জায়গা কমছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কলকাতায় গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, অথচ মানুষের নিরাপদ হাঁটার জায়গা নেই।’’ ফুটপাথের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “কেউ ফুটপাথে ফল বিক্রি করছেন, কেউ পানের দোকান দিচ্ছেন, আবার কোথাও দুধ গরম করার মতো কাজও হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে হাঁটার জায়গা হারাচ্ছেন।”
উল্লেখ্য, কলকাতার পার্ক স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় শিশুর জন্য ফুটপাথে উনুন জ্বালিয়ে দুধ গরম করছিলেন এক মহিলা। ২৩ আগস্টের ওই ঘটনায় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁকে ফুটপাথে রান্না বা সংসার পাতার জন্য ধমক দেন এবং জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলেন। ঘটনাটির ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ফুটপাথ পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য এবং সেখানে বসবাস করা বা আগুন জ্বালানো বিপজ্জনক। পরে তিনি স্বীকার করেন, ওই মহিলার সঙ্গে আরও নরমভাবে কথা বলা উচিত ছিল। এরপর ঘটনাটি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পায়। ফুটপাতবাসী ওই মহিলা, সীতাদেবী ওরফে রশিদা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিবারের জন্য থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। পথচারীদের নিরাপত্তা ও শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনই ফুটপাথবাসী মানুষের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। তাই দিলীপ ঘোষ নিজের ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেও প্রশ্ন ওঠে, এবার কি নিরাপদ ও মানবিক পুনর্বাসনের পথেই কি সমাধান খুঁজবে প্রশাসন?


