নয়াদিল্লি: একদিকে লোকসভা সচিবালয়ের নোটিস, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের নজর, দ্বিমুখী চাপে বাড়ছে ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদকে (Rebel TMC MPs) ঘিরে টানটান উত্তেজনা! দলবদল বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে করা আবেদনের ভিত্তিতে নোটিস পাঠিয়েছে লোকসভা সচিবালয়। আর সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাত দিন!
২৫ অগস্টের ওই নোটিসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা কালীঘাট শিবিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ১৮ জুন জমা দেওয়া পৃথক পৃথক আবেদনের প্রতিলিপি সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর ওই ২০ সাংসদ (Rebel TMC MPs) ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (NCPI) যোগ দিয়েছেন। সেই কারণে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলবদল বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানানো হয়েছিল।
এবার পালা ২০ সাংসদের (Rebel TMC MPs)। লোকসভা সচিবালয়ের নির্দেশ, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। সেই জবাব পৌঁছবে লোকসভার স্পিকারের বিবেচনায়। অর্থাৎ এখন ২০টি জবাব, তারপর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক মহলের নজর স্বাভাবিকভাবেই সেই দিকেই।
তবে গল্পে এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টেও এই মামলার শুনানি হয়েছে। ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) করা মামলায় শীর্ষ আদালত লোকসভার স্পিকারের কাছে জবাব চেয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু নোটিস দেওয়া হয়েছে কি না সেটাই প্রশ্ন নয়; অযোগ্য ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে কি না, আর হলে কতদিনে? সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্পিকারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, ২০ সাংসদকেই ইতিমধ্যে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যেই আরও একটি কৌতূহল তৈরি হয়েছে সংসদে। বাদল অধিবেশনের আগে ২০ জনের (Rebel TMC MPs) জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনিকভাবে তাঁরা এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই রয়েছেন। কারণ অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে তাঁদের একীভূত হওয়ার আবেদন এখনও পর্যালোচনাধীন। অর্থাৎ, চেয়ার আলাদা, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আলাদা, আর সাংসদ পদ এখন আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়।
এখন সামনে সাত দিনের সময়সীমা। ২০ সাংসদের (Rebel TMC MPs) জবাবের পর কী পদক্ষেপ করেন স্পিকার, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ। আর সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির কারণে গোটা প্রক্রিয়াটিও পেয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। ২০টি নোটিস, ২০টি জবাব, স্পিকারের সিদ্ধান্ত, দিল্লির রাজনীতিতে এখন যেন শুরু হয়েছে ‘সেভেন ডে কাউন্টডাউন’।


