Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: এসএসসি-র ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যাওয়ার যে সময়সীমা আগে নির্ধারিত হয়েছিল, তা পেরিয়ে গেলেও এখনই তাঁদের কর্মস্থল ছাড়তে হবে না। নতুন করে জমা পড়া অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশ কার্যকর রাখার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয়। এর জেরে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। পরে হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।
শীর্ষ আদালত অবশ্য হাই কোর্টের প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। তবে যাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের জন্য সাময়িকভাবে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পদে থেকে কাজ করতে পারবেন তাঁরা। এর পাশাপাশি শূন্যপদ পূরণে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু এত বড় সংখ্যক শূন্যপদে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীরা। নতুন একটি ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) জমা দিয়ে তাঁদের বক্তব্য, নতুন নিয়োগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চাকরির মেয়াদ বজায় রাখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার এই আবেদনের শুনানি বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির কারণে মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। আবেদনকারীদের আইনজীবীরা সেখানে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তৈরি হতে পারে এমন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
এরপরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি ও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ৩১ আগস্ট পেরিয়ে গেলেও আপাতত ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে নতুন কোনও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হচ্ছে না। নতুন আবেদনের শুনানির পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে।


