Aaj India Desk, কলকাতা : রাজনৈতিক লড়াই করতে গিয়ে বাকযুদ্ধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সরাসরি বিরোধী নেত্রীর রাস্তায় বেরোনোর স্বাধীনতাকেই খর্ব করার চেষ্টা করা হলে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেও এবার সেই প্রশ্নই উঠে আসছে। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) হুঁশিয়ারি দিতেই এবার পাল্টা জবাব দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বলেছিলেন শুভেন্দু ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) উদ্দেশ্য করে সোমবার নবান্নে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “আপনাকে রাস্তায় বেরোতে হবে না। আপনি যাতে রাস্তায় না বেরোতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমি করবো।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই সরব হয়েছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ।
কী জবাব দিলেন মমতা ?
শুভেন্দুর মন্তব্যের জবাবে মমতা (Mamata Banerjee) সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, এই ‘ব্যবস্থা’ বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে? তাঁকে কি বাড়িতে আটকে রাখার কথা বলা হচ্ছে? ভয় দেখানো হচ্ছে? নাকি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির কোনও পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে?
মমতার বক্তব্য, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবেই লড়াই হওয়া উচিত। মতের বিরোধিতা, রাজনৈতিক সমালোচনা বা নির্বাচনী লড়াই সবই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক নেতার চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে। এই ঘটনাকে ‘নিম্মমানের নজির’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ
নিজের পোস্টে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি এবং দেশের মানুষের উদ্দেশ্যেও প্রশ্ন ছুড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি কীভাবে একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন? তাঁর দাবি, এই ধরনের বক্তব্যকে শুধু রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হবে। কারণ, এর সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।
মমতার পর একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কুনাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বাচনে পরাজিত করার সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধী নেত্রীকে রাস্তায় বেরোতে না দেওয়ার মতো মন্তব্য গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


