31 C
Kolkata
Tuesday, August 25, 2026
spot_img

টাকায় চাকরি, টাকাতেই র‍্যাঙ্ক ? ‘রেট চার্ট’ সামনে এনে পার্থ-অর্পিতার বিরুদ্ধে ED চার্জশিট!

Aaj India Desk, কলকাতা : SSC-র গ্রুপ C ও গ্রুপ D পদে চাকরি দেওয়ার জন্য নাকি নির্দিষ্ট ছিল ‘রেট চার্ট’! এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি প্রোসিকিউশন কমপ্লেন্ট বা চার্জশিট পেশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ED জানিয়েছে, ২০ আগস্ট কলকাতার বিশেষ PMLA আদালতে এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

কোন চাকরির জন্য কত টাকা?

ED-র দাবি অনুযায়ী, SSC তে বিভিন্ন পদের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে—

গ্রুপ C: প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ টাকা

গ্রুপ D: প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা

তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুধু টাকা নেওয়াই নয়, অর্থের বিনিময়ে মেধাতালিকায় ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ করানো হয়েছিল। OMR-ভিত্তিক পরীক্ষার ফলেও কারচুপি করা হয়েছিল বলে দাবি ED-র।

OMR থেকে র‌্যাঙ্ক, কীভাবে চলত কারচুপি?

ED-র অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে অনিয়ম করা হয়েছিল। OMR স্কোরে কারচুপি, র‌্যাঙ্কে বেআইনি পরিবর্তন, জাল ও পিছনের তারিখ দেওয়া সুপারিশপত্র এবং নিয়োগপত্র তৈরি—এমন একাধিক পদ্ধতির কথা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ এবং নির্ধারিত নিয়ম এড়িয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের অভিযোগও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

পার্থের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

ED-র বক্তব্য, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্কুলশিক্ষা দফতর এবং WBCSSC-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উপর ব্যাপক প্রভাব ছিল। সেই পদ ব্যবহার করে তিনি বেআইনি নিয়োগে প্রভাব খাটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।

ED-র দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তাঁর নির্দেশে তৈরি করা হত এবং তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সুপারিশ ও নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পাঠানো হত। তবে এগুলি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ; আদালতে তা প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ প্রসন্ন

তদন্তে প্রসন্ন কুমার রায়কে ‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ED। তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে কথিতভাবে বেআইনি নিয়োগের টাকা সংগ্রহ ও তার গতিপথ পরিচালনা করা হত বলে অভিযোগ। কুন্তল ঘোষের নামও চার্জশিটে রয়েছে। SSC নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আগেই তদন্ত হয়েছে।

ED জানিয়েছে, গ্রুপ C ও গ্রুপ D নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৩০.৪০ কোটি টাকা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, র‌্যাঙ্ক জাম্পিং, প্যানেলের মেয়াদ শেষের পর নিয়োগ-সহ অন্যান্য পদ্ধতির হিসাব যুক্ত হলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন