Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে কিছু মন্তব্য যে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলল সোমবার। নবান্নে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ‘মুভমেন্ট’ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই মন্তব্য সামনে আসতেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে পার্ক স্ট্রিটের দরিদ্র পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, পরিবারটি চাইলে তিনি বা তাঁর দলের সহকর্মীরা থাকার ব্যবস্থা, শিশুদের পড়াশোনা এবং খাবারের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। মমতা বলেন, “গরিব হওয়া কোনো অপরাধ নয়। দারিদ্র্যের থেকেও মানবিকতা অনেক বড়।”
এরপরেই নবান্নে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনাকে রাস্তায় বেরোতে হবে না। আপনি যাতে রাস্তায় না বেরোতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমি করবো।” মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? ‘রাস্তায় বেরোতে না দেওয়া’ বলতে কি রাজনৈতিক কর্মসূচি আটকানোর ইঙ্গিত, নাকি নিছক রাজনৈতিক আক্রমণের ভাষা?
এই প্রশ্নের মধ্যেই পাল্টা সরব কুণাল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেবেন না! এসব কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?” একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাস্তায় বেরোতে না দেওয়ার কথা কেন বলা হচ্ছে, এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার ভাষা এবার কোন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে তা নিয়ে সপাটে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
ফলে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ‘রাস্তায় বেরোতে না দেওয়া’র মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট। একদিকে এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি শিবির, অন্যদিকে কুণাল ঘোষের পাল্টা প্রশ্নে সামনে এসেছে গণতান্ত্রিক পরিসর ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অধিকার নিয়ে বিতর্ক। এখন দেখার, শুভেন্দুর মন্তব্যের ব্যাখ্যা কীভাবে সামনে আসে এবং এই ইস্যু আগামী দিনে তৃণমূল বিজেপির সংঘাতকে আরও কোন মাত্রায় নিয়ে যায়।


