Aaj lndia Desk, কলকাতা: ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় বাড়ি ছেড়েছিলেন। কেউ আবার দোকান পাওয়ার আশায় গুনেছিলেন ২৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিশ্রুতির সেই ফ্ল্যাট বা দোকান কোনওটাই হাতে আসেনি। শ্যামপুকুরে প্রোমোটিংকে ঘিরে এমনই একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অতীন ঘোষের (Atin Ghosh) মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ঘোষ (Priyadarshini Ghosh) এবং প্রোমোটার সোমনাথ কুণ্ডু। ঘটনায় ইতিমধ্যেই শ্যামপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
‘ফ্ল্যাট পাব’ ভেবে বাড়ি ছাড়লেন, শেষে ঠিকানা বদলের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, পুরনো বাড়ির জায়গায় আবাসন তৈরি হবে এমন আশ্বাস দিয়েই তাঁদের সঙ্গে চুক্তির কথা বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নির্মাণকাজ শেষ হলে বাড়ির মালিকদের প্রত্যেককে একটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। সেই আশাতেই পুরনো বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তাঁরা।
এক বাড়ির মালিকের দাবি, তাঁদের ঠিকানা ছিল ১৯ নম্বর গণমতি লেন। প্রিয়দর্শিনী ঘোষ এবং প্রোমোটার সোমনাথ কুণ্ডুর তরফে তাঁদের সিকদার বাগানে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় সমস্যার অভিযোগ। তাঁর দাবি, নিজের জায়গার বদলে অন্য এক ব্যক্তির ঠিকানায় তাঁদের রাখা হয়েছে। ‘নিজের বাড়ির জায়গায় নিজের ফ্ল্যাট’ পাওয়ার যে কত ছিল, তা আর মেলেনি। ওই অভিযোগকারীর কথায়, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শান্তিতে দু’বেলা ভাত খাওয়াটুকুও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এবার দোকানের গল্প, ২৬ লক্ষ টাকার অভিযোগ
শুধু ফ্ল্যাট নয়, দোকান নিয়েও উঠেছে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। এক ব্যক্তির দাবি, দোকান পাওয়ার আশায় তিনি ২৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও দোকানের দেখা নেই।অভিযোগকারীর দাবি, দোকান কবে পাবেন জানতে ফোন করলেই নতুন নতুন সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। কখনও সাত দিন, কখনও দশ দিন, আবার কখনও এক মাস এইভাবেই সময় গড়াচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
‘ভুল করিনি’, পাল্টা দাবি প্রিয়দর্শিনীর
অভিযোগের জবাবে প্রিয়দর্শিনী ঘোষ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, তিনি কোনও ভুল করেননি। বরং তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা আদায়ের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কয়েকজন যুবকের মাধ্যমে তাঁকে ঘেরাও করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। প্রিয়দর্শিনীর দাবি, তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আদালতেই লড়াই করবেন তিনি।
এদিকে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল তো পুকুর চুরি করে নিয়েছে।” ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা পড়ায় এখন নজর তদন্তের দিকে। প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট ও দোকান কেন মেলেনি, টাকা কোথায় গেল এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা তদন্তেই মিলবে সেই উত্তর।


