Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের হাসপাতাল ও শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি সরকার (BJP Government)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও (Samik Bhattacharya) একাধিকবার জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতি থেকে স্কুল-কলেজের পরিচালন সমিতি—কোথাও সক্রিয় রাজনীতিকদের রাখা হবে না।
কিন্তু শনিবার উচ্চশিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে একাধিক বিজেপি সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীকে মনোনীত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-সহ আরও অনেকে। কলকাতার একাধিক কলেজের দায়িত্বও পেয়েছেন বিজেপির মন্ত্রী ও বিধায়কেরা।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক বলেন, “আমরা বলেছি, শিক্ষাঙ্গনকে আমরা রাজনীতিমুক্ত করব। রাজনীতিমুক্ত কীভাবে করে?” তাঁর দাবি, কলেজে বিশৃঙ্খলা ও হেনস্থা ঠেকাতেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “কলেজের অধ্যাপিকাকে প্লাস্টিকের জলের জগ ছুড়ে মারা হয়েছিল। সেগুলো ঠেকানোর জন্য লোক দরকার তো। সে জন্যই এঁদের আনা হয়েছে। সচেতনভাবেই করা হয়েছে।”
তবে শমীকের এই উদাহরণ নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। তাঁর ইঙ্গিত ২০১৩ সালের ভাঙড় মহাবিদ্যালয়ের ঘটনার দিকে। তৎকালীন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম তখন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভূগোলের শিক্ষিকা দেবযানী দে-র সঙ্গে বচসার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের জগ ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল আরাবুলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় শিক্ষিকার চোটও লাগে বলে অভিযোগ।
ফলে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক দাপট ঠেকাতে রাজনীতিকদেরই দায়িত্ব দেওয়ার যুক্তি কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, যে ঘটনার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে, সেখানেও পরিচালন সমিতির রাজনৈতিক সভাপতির বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল।
গত মে মাসে ক্ষমতায় এসে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির পুরনো গভর্নিং বডি ভেঙে দিয়েছিল উচ্চশিক্ষা দফতর। তখন অরাজনৈতিক ও স্বচ্ছ পরিচালন ব্যবস্থার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন তালিকায় সক্রিয় বিজেপি নেতাদের জায়গা পাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়েই এখন বিতর্ক তুঙ্গে।


