Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শুধু কলকাতা নয়, তারাপীঠ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও লজগুলিতে অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। কোথাও বন্ধের নির্দেশ, কোথাও শোকজ, আবার কোথাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে বড় পদক্ষেপ দমকলের
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। এরপর অগ্নি-সুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগে ১৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দমকল। পাশাপাশি আরও ২৫টি হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ করা হয়েছে। কেন নির্ধারিত অগ্নি-সুরক্ষা বিধি মানা হয়নি, সেই কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিসে।
এর আগে শুক্রবার ১৭টি হোটেল-রেস্তোরাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নোটিস পাওয়া ১৩টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে সম্পূর্ণ খালি করার জন্যও নতুন করে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতার বাইরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, বর্ধমান ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন হোটেল-সহ মোট ২৯টি হোটেলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মার্কুইস স্ট্রিট ও মেদিনীপুরেও অভিযান
মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেলগুলিতেও অভিযান চালানো হয়েছে। অগ্নি-সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬টি হোটেল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও লজগুলিতেও দমকল আধিকারিকরা পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এছাড়াও আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে ২টি হোটেল এবং একটি শপিং মল সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারাপীঠে চাওয়া হল ১৪ ধরনের নথি
তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর সেখানেও কড়া পদক্ষেপ করেছে মহকুমা প্রশাসন। হোটেলগুলির কাছে ১৪ ধরনের নথি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিউটেশন, অনুমতিপত্র, সাইট প্ল্যান, ট্রেড লাইসেন্স, বিদ্যুৎ সংযোগের নথি, পলিউশন সার্টিফিকেট ও ফুড সেফটি লাইসেন্স।
এর পাশাপাশি TRDA-র NOC এবং ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটও জমা দিতে বলা হয়েছে। পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি যে আরও কড়া হচ্ছে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলিই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


