Aaj India Desk, কলকাতা: নিউটাউনের স্বামীজি নগর এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে দেহটি উদ্ধার করে বিধাননগর পুলিশ। মৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস বলে জানা গিয়েছে। বয়স আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৫ বছর। দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
মুখে গুরুতর আঘাত, শরীরেও ক্ষত
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি বস্তার ভিতরে ঢোকানো অবস্থায় পড়েছিল যুবকের দেহ। তাঁর মুখে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গাতেও ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। মৃতের শরীরে একাধিক ট্যাটু রয়েছে বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কীভাবে এবং কোথায় যুবককে খুন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন সৌরভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভ গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর খোঁজ চলছিল। পরে নিউটাউনের স্বামীজি নগর থেকে তাঁর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দু’-তিন দিন আগেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।
CCTV-তে ধরা পড়ল দেহ ফেলার ছবি
ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে এলাকার CCTV ফুটেজে। সেখানে দেখা গিয়েছে, এক যুবক কাঁধে করে বস্তাবন্দি দেহ নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইকের পিছনে সেটি ফেলে যাচ্ছে। এরপর দেহের উপর বস্তা চাপা দিয়ে তার উপরে ইট রেখে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
রাত ৪টে ২০ মিনিটে ঘটল ঘটনা
এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, রাত প্রায় ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ ওই যুবককে দেহ ফেলে যেতে দেখা যায়। তিনি প্রায় এক মিনিট সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এলাকায় আলো কম থাকায় CCTV ফুটেজে তাঁর মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি। ফলে এখনও অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
সকাল ৮টায় উদ্ধার দেহ
সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। প্রায় সকাল ৮টা নাগাদ দেহটি বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানান, দেহটি অন্তত তিন থেকে চার দিনের পুরনো হতে পারে।
খুনের কারণ খুঁজছে পুলিশ
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সৌরভকে কোথায় খুন করা হয়েছিল, কারা তাঁকে হত্যা করেছে এবং কেনই বা নিউটাউনে এনে দেহ ফেলে যাওয়া হল এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। CCTV ফুটেজ, মৃতের পরিচিতদের তথ্য এবং অন্যান্য সূত্র খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


