কলকাতা: কথায় আছে, ‘কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ’! শহর কলকাতার বুকে ‘শিখা ইন’ হোটেলের বিধ্বংসী আগুন প্রাণ কেড়েছে ৯ জনের। যাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশী। নিউ মার্কেটের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের হোটেল-গেস্টহাউস ব্যবসার (Kolkata Hotel-Guesthouse business) ছবিটাও রাতারাতি বদলে গিয়েছে!
শহরের কেন্দ্রের বহু হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হাজার হাজার যাত্রীর ভরসা এখন ই এম বাইপাস ঘেঁষা গেস্ট হাউস। আর সেখানেই অভিযোগ, শুরু হয়েছে ভাড়ার ‘জ্যাকপট’! চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে আসা বাংলাদেশীদের বাড়তি চাহিদাকেই হাতিয়ার করে কিছু গেস্ট হাউসে লাগামছাড়া ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ। অনেকেই কয়েক দিন আগেই নিউ মার্কেট এলাকায় স্বল্প বাজেটের হোটেল (Kolkata Hotel-Guesthouse business) বুক করেছিলেন। কিন্তু শহরে পৌঁছে জানতে পারেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে হোটেল বন্ধ। বিকল্প আশ্রয়ের খোঁজে তাঁদের গন্তব্য হয় মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, কসবার টেগোর পার্ক–নস্করহাট এবং পিয়ারলেস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা।
রোগী ও তাঁদের পরিজনের অভিযোগ, যে রুম এতদিন ৫০০–৬০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেই একই ঘরের জন্য এখন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। কম খরচে চিকিৎসার পরিকল্পনা নিয়ে আসা বহু পরিবারের বাজেট এক লাফে ভেঙে পড়েছে শুধু থাকার খরচেই।
এই পরিস্থিতিতে আরও একটি উদ্বেগজনক বিষয় সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাইপাসের দুই ধারে গড়ে ওঠা বহু গেস্ট হাউসের প্রয়োজনীয় ট্রেড বা ফায়ার লাইসেন্স নেই (Kolkata Hotel-Guesthouse business)। বর্ষায় জল জমা রাস্তা, কর্দমাক্ত প্রবেশপথ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই সেগুলির অনেকগুলি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ, দমকলের একাংশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আঁতাঁতের অভিযোগও উঠেছে, যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীন সরকারি প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
নিউ মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কড়া নজরদারি নিরাপত্তার জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। তবে সেই অভিযানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাথা গোঁজার একটি সাশ্রয়ী ঠিকানা খুঁজে পাওয়াই এখন বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে বড় লড়াই।


