Aaj India Desk, কলকাতা : অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) আবেদন করেও এখনও বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় ক্ষোভ বাড়ছে। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরের সামনে টাকা না-পাওয়া মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ‘এনরোলমেন্ট নম্বর’ জমা দিতে বলেন তিনি। এর মাঝেই এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি।
‘২ কোটি মহিলা আবেদন করেছেন’
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমার মা-বোনেদের ধৈর্য ধরতে হবে। ২ কোটি মহিলা আবেদন করেছেন বললে, সেগুলি আপলোড করতে কিছুটা সময় লাগবে। সেই সময়টা দিতে হবে।” মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। তাঁরা অনেক সমস্যা তৈরি করছেন।” বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও আনবেন বলে জানান তিনি।
জেলাশাসকের দফতরে বিক্ষোভ
শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে যান অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সেখানে পৌঁছতেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না-পাওয়া মহিলারা তাঁর সামনে বিক্ষোভ দেখান। আবেদন করার পরেও কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এরপর মন্ত্রী দফতরের ভিতরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা মন্ত্রীর
প্রায় আড়াইটে নাগাদ বৈঠক শেষ করে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ এবং বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কাছে যান অগ্নিমিত্রা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের নিজেদের ‘এনরোলমেন্ট নম্বর’ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তাঁর আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আগেও একই অভিযোগ চন্দনার
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সুবিধা নিয়ে এর আগে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি। তাঁর দাবি ছিল, যোগ্য উপভোক্তাদের একটি অংশকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগামী দিনে সমস্যা মিটে যাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন চন্দনা।
উল্লেখ্য, অগ্নিমিত্রা পালের অভিযোগ ঘিরে পাল্টা রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ মন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এখন রাজ্যের মহিলাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই উপভোক্তাদের একাংশের প্রশ্ন, আবেদন করার পরও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে দেরি হচ্ছে কেন। প্রশাসনিক স্তরে এই সমস্যার সমাধান কত দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই নজর।


