Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাসবিহারীর বিধায়ক তথা প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্বপন দাশগুপ্ত। পড়ুয়াদের নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বাইরের হস্তক্ষেপ কমানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
‘রাজনৈতিক দলের উসকানি থেকে দূরে থাকুন’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু ক্যাম্পাসের পরিবেশকেই অশান্ত করে না, বরং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাদবপুরের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব রাজনৈতিক দলেরই উসকানি বা প্ররোচনা থেকে দূরে থাকা উচিত।
মধ্যরাতের সংঘর্ষের পর উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার মধ্যরাতে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসএফআই এবং এবিভিপির মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরদিন বৃহস্পতিবার তাণ্ডবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন স্বপন দাশগুপ্ত।
‘নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীক, ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত’
শতদল প্রতীক ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু এই প্রতীকটি তৈরি করেছিলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। পাশাপাশি শ্রী অরবিন্দের শুরু করা ন্যাশনাল এডুকেশন আন্দোলনের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই প্রতীকের অবমাননা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এর মর্যাদা বজায় রাখার আবেদন
স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানার কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ফলে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও পড়তে পারে। ছাত্র রাজনীতি নতুন কিছু নয়, কিন্তু বারবার নেতিবাচক কারণে যাদবপুরের নাম সংবাদে উঠে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, এটি রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’। দেশজুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও স্বীকৃতি বজায় রাখাই সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
‘পড়ুয়াদের নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দিন’
পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পড়ুয়াদের নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, ক্যাম্পাসে বাইরের হস্তক্ষেপ যত কম হবে, ততই মঙ্গল। দুর্গাপুজোর মতো সামাজিক উৎসবে যেভাবে দলীয় রাজনীতিকে দূরে রাখা হয়, যাদবপুরের পরিবেশ শান্ত রাখার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলির একইভাবে উসকানি থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এখনও বহাল
এদিকে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর অভিযোগ দায়ের হওয়া, মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারকে ফোনে না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট বসানোর মতো পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্বপন দাশগুপ্ত অবশ্য তাঁর আবেদনকে কোনও দলীয় বার্তা হিসেবে দেখতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্বেগ থেকেই যাদবপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার জন্য এই আবেদন।


