Aaj India Desk, কলকাতা : চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পাওয়ার পরই নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর বিরুদ্ধে নথিভুক্ত একাধিক এফআইআর-এর ক্ষেত্রে দেওয়া ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা সামগ্রিক আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের দাবি, প্রতিটি এফআইআর ও সংশ্লিষ্ট কেস ডায়েরি খতিয়ে না দেখে এই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া আইনসঙ্গত নয়।
১৬টি এফআইআর, রক্ষাকবচ নিয়ে আইনি লড়াই
রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে মোট ১৬টি পৃথক এফআইআর রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় আগেই আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। পরে সেই সুরক্ষার মেয়াদ আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বাকি ১২টি মামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলছে। এই মামলার রায় আগামী ২৫ আগস্ট ঘোষণা হওয়ার কথা।
‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ আগাম জামিনের সমতুল্য
রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদনে রাজ্য জানিয়েছে, প্রতিটি এফআইআর-এর পৃথক প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট কেস ডায়েরি পরীক্ষা না করে কোনও অভিযুক্তকে সামগ্রিক সুরক্ষা দেওয়া যায় না। রাজ্যের আরও দাবি, এই ধরনের ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ কার্যত আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) সমতুল্য। তাই মামলাগুলির নির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ খতিয়ে না দেখে একসঙ্গে আইনি সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয় বলে আদালতে যুক্তি দিয়েছে রাজ্য।
‘তথ্য গোপন’-এর অভিযোগও রাজ্যের
আবেদনে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য গোপন করার অভিযোগও তুলেছে রাজ্য। পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণে অভিষেককে দেওয়া আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার আবেদন খারিজ করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নের জন্য যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, তার সামনে অভিষেক হাজির হননি। অভিষেকের পক্ষে আইনজীবী রেবেকা জন আদালতে জানিয়েছিলেন, আমেরিকার যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আগে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার করেছিলেন, তাঁর কাছেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান তৃণমূল সাংসদ। এসএসকেএম বা আইপিজিএমইআর-এ চিকিৎসা করানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন বলেও আদালতে জানানো হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সেখানেই চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশযাত্রার অনুমতি পান তিনি। তবে বিদেশযাত্রার অনুমতি পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


