Aaj India Desk, কলকাতা: বুধবার রাতে এসএফআই (SFI)-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপি (ABVP)-র মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) চত্বর। রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দুই পক্ষই সকাল ১১টা থেকে আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই যাদবপুর থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে।
১১ জনের বিরুদ্ধে FIR, ক্যাম্পাসে পুলিশের তল্লাশি
বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন BE তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অরিত্র সরকার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য পুলিশের সাহায্য চান। এরপর পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং সেখানে থাকা বহিরাগতদের বের করে দেয়।
সকাল থেকেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। DSF-এর সদস্যরা ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাঁদের মূল রাস্তায় ওঠার আগেই আটকে দেয়। অন্যদিকে, ABVP যাদবপুর থানা থেকে মিছিল করার প্রস্তুতি নেয়।
অশান্তি যাতে আর না ছড়ায়, তার জন্য ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও রাখা হয়। ABVP-র মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগোলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে SFI।
SFI-এর অভিযোগ
ঘটনা নিয়ে SFI-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব দেখে বিজেপি ভয় পেয়েছে। তাঁর দাবি, স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের প্ররোচনায় দলীয় অনুগামীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁদের প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে।
দেবাঞ্জন দে বলেন, “দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের তরঙ্গ দেখে বিজেপি ভয় পেয়েগিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের প্ররোচনাতেই দলীয় অনুগামীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে। ছাত্রসমাজ এই মাতব্বরি মেনে নেবে না।”
কীভাবে শুরু হল সংঘর্ষ?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় FETSU-এর সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করেই প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। বৈঠকের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং একাধিক পড়ুয়া আহত হন।
বাম সংগঠনগুলির অভিযোগ কী?
DSF-এর অভিযোগ, তাঁদের জিবি মিটিং চলাকালীন ABVP সভাপতি নিখিল রায় ও তাঁর সঙ্গীরা সেখানে ঢুকে বৈঠক বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
RSF-এর সদস্য অভিনব দাসের অভিযোগ, ABVP ও NSF নেতা নিখিল দাস, দীপ্তিমান কর এবং সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক জন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালান। ঘটনায় অস্মিত সিনহা, সায়ক মণ্ডল-সহ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, তাঁদের তাড়া করে অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখা হয়। ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালানো এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলেও দাবি করেন অভিনব দাস।
ABVP-র পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে, ABVP সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, জিবি মিটিংয়ের অজুহাতে SFI, DSO এবং DSF পরিকল্পনা করে তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে। ABVP-র সভাপতি নিখিল রায় এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংগঠনের দাবি। বর্তমানে তিনি KPC মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
ABVP-র বক্তব্য, তাঁরা যাদবপুর থানার বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন। ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যে এখন মূল নজর পুলিশের তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


